বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জঙ্গি
সন্দেহে আগ্নেয়াস্ত্রসহ যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা
নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আদলে
গঠিত ‘বিইএম’ নামে আরেকটি নতুন জঙ্গি সংগঠনের নেতা ও সদস্য। বড় ধরনের
জঙ্গি হামলার জন্য সংগঠনটি গোপনে সশস্ত্র প্রশিক্ষণের তৎপরতা চালাচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার ভোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় র্যাব। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় র্যাবের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে।
বগুড়ায় র্যাব-১২ বিশেষ কোম্পানি ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সংবাদ সমেঞ্চলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার জবানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ‘দেওয়ান বাড়ি’ নামের একটি বাসায় জঙ্গিরা গোপন প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে—এমন খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে র্যাব সেখানে অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা হামলা করে। এ সময় ১৫-১৬ জন জঙ্গি বাসাটির জানালা ভেঙে পালিয়ে গেলেও জঙ্গিনেতাসহ সশস্ত্র তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, গুলি ও জঙ্গি প্রশিক্ষণের উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা, প্রচারপত্র ও জিহাদে উদ্বুদ্ধকরণ বইপুস্তক। অভিযানের পর থেকে বাসাটির মালিক দুলাল হোসেন আত্মগোপন করেছেন।
র্যাবের দাবি, উদ্ধার হওয়া প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা ও লিফলেট এবং র্যাবের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আটক হওয়া ব্যক্তিরা ‘বিইএম’ নামে সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্য। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতার সঙ্গে জেএমবির পুরোপুরি মিল রয়েছে।
ঢাকা থেকে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বগুড়ায় গিয়ে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ জন সাংবাদিকের একটি দল নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ায় পৌঁছান সংস্থার গণমাধ্যম শাখার পরিচালক। ভোর ছয়টার দিকে র্যাব ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সংবাদ সমেঞ্চলনে সাংবাদিকদের হাতে লিখিত বিবৃতি তুলে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, র্যাবের অভিযানে আটক তিন জঙ্গি হলেন ঢাকার কমলাপুর রেল কলোনির মো. নাহিদ (২২), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনারপাড়ার বাবু শেখ (২১) এবং দলনেতা দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক ফিরোজ আলম (৩৫)। অভিযানে চীনের তৈরি অত্যাধুনিক একটি একে টুটু এসএমজি, জার্মানির তৈরি একটি স্পোর্টস রাইফেল, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ড্রাম ম্যাগাজিন, তিনটি সাধারণ ম্যাগাজিন, ৮০টি গুলি, প্রচুর বিদেশি ধারালো অস্ত্র, জঙ্গি প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সমেঞ্চলনে দাবি করা হয়, অভিযানের সময় জঙ্গিদের হামলায় র্যাবের চার সদস্য আহত হয়েছেন। তবে তাঁরা চিকিৎসার জন্য কোথায় ভর্তি হয়েছেন, তা জানাতে পারেনি র্যাব। র্যাবের লিখিত বিজ্ঞপ্তি ও মামলার প্রাথমিক এজাহারে গ্রেপ্তার হওয়া দলনেতাকে দিনাজপুরের ফিরোজ আলম উল্লেখ করা হলেও গতকাল দুপুরে থানাহাজতে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁর নাম মো. সানাউল্লাহ মোল্লা (৩৫)। বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ফুলকোট গ্রামে। উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা কওমি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক তিনি।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. নাহিদ জানান, তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে কুলির কাজ করেন এবং রিকশা চালান। অর্থের লোভ দেখিয়ে শিবু নামের এক ব্যক্তি তাঁকে বগুড়ায় ডেকে আনেন। বাবু শেখ বলেন, তিনি বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ করেন। মুঠোফোনের পরিচয় থেকে আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে বগুড়ায় নিয়ে আসেন। নতুন জঙ্গি সংগঠনের নামকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-১২-এর অধিনায়ক জামিল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, উদ্ধার হওয়া প্রশিক্ষণ নির্দেশিকার একাধিক স্থানে ‘বিইএম’ লেখা রয়েছে। অন্য একটিতে জেএমবি লেখা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেএমবির অনুসারীরা ওই নামে মাঠে নেমেছে। তবে বিইএমের পুরো অর্থ কী, তা তিনিও জানাতে পারেননি। র্যাবের জব্দ তালিকায় পুস্তিকা, প্রচারপত্র ও প্রশিক্ষণ নির্দেশিকার উল্লেখ করা হলেও সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কোনোটিতেই সংগঠনের নাম নেই। প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা বলে যা দাবি করা হচ্ছে, সেটা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা আগ্নেয়াস্ত্র পরিচিতির একটি বাঁধানো বই।
গতকাল শুক্রবার ভোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায় র্যাব। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় র্যাবের পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে।
বগুড়ায় র্যাব-১২ বিশেষ কোম্পানি ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সংবাদ সমেঞ্চলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার জবানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ‘দেওয়ান বাড়ি’ নামের একটি বাসায় জঙ্গিরা গোপন প্রশিক্ষণ চালাচ্ছে—এমন খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে র্যাব সেখানে অভিযান চালায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা হামলা করে। এ সময় ১৫-১৬ জন জঙ্গি বাসাটির জানালা ভেঙে পালিয়ে গেলেও জঙ্গিনেতাসহ সশস্ত্র তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় অস্ত্র, গুলি ও জঙ্গি প্রশিক্ষণের উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা, প্রচারপত্র ও জিহাদে উদ্বুদ্ধকরণ বইপুস্তক। অভিযানের পর থেকে বাসাটির মালিক দুলাল হোসেন আত্মগোপন করেছেন।
র্যাবের দাবি, উদ্ধার হওয়া প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা ও লিফলেট এবং র্যাবের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আটক হওয়া ব্যক্তিরা ‘বিইএম’ নামে সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্য। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতার সঙ্গে জেএমবির পুরোপুরি মিল রয়েছে।
ঢাকা থেকে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বগুড়ায় গিয়ে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ জন সাংবাদিকের একটি দল নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ায় পৌঁছান সংস্থার গণমাধ্যম শাখার পরিচালক। ভোর ছয়টার দিকে র্যাব ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত সংবাদ সমেঞ্চলনে সাংবাদিকদের হাতে লিখিত বিবৃতি তুলে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, র্যাবের অভিযানে আটক তিন জঙ্গি হলেন ঢাকার কমলাপুর রেল কলোনির মো. নাহিদ (২২), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সোনারপাড়ার বাবু শেখ (২১) এবং দলনেতা দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক ফিরোজ আলম (৩৫)। অভিযানে চীনের তৈরি অত্যাধুনিক একটি একে টুটু এসএমজি, জার্মানির তৈরি একটি স্পোর্টস রাইফেল, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ড্রাম ম্যাগাজিন, তিনটি সাধারণ ম্যাগাজিন, ৮০টি গুলি, প্রচুর বিদেশি ধারালো অস্ত্র, জঙ্গি প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সমেঞ্চলনে দাবি করা হয়, অভিযানের সময় জঙ্গিদের হামলায় র্যাবের চার সদস্য আহত হয়েছেন। তবে তাঁরা চিকিৎসার জন্য কোথায় ভর্তি হয়েছেন, তা জানাতে পারেনি র্যাব। র্যাবের লিখিত বিজ্ঞপ্তি ও মামলার প্রাথমিক এজাহারে গ্রেপ্তার হওয়া দলনেতাকে দিনাজপুরের ফিরোজ আলম উল্লেখ করা হলেও গতকাল দুপুরে থানাহাজতে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁর নাম মো. সানাউল্লাহ মোল্লা (৩৫)। বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ফুলকোট গ্রামে। উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা কওমি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক তিনি।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. নাহিদ জানান, তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে কুলির কাজ করেন এবং রিকশা চালান। অর্থের লোভ দেখিয়ে শিবু নামের এক ব্যক্তি তাঁকে বগুড়ায় ডেকে আনেন। বাবু শেখ বলেন, তিনি বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ করেন। মুঠোফোনের পরিচয় থেকে আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে বগুড়ায় নিয়ে আসেন। নতুন জঙ্গি সংগঠনের নামকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-১২-এর অধিনায়ক জামিল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, উদ্ধার হওয়া প্রশিক্ষণ নির্দেশিকার একাধিক স্থানে ‘বিইএম’ লেখা রয়েছে। অন্য একটিতে জেএমবি লেখা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জেএমবির অনুসারীরা ওই নামে মাঠে নেমেছে। তবে বিইএমের পুরো অর্থ কী, তা তিনিও জানাতে পারেননি। র্যাবের জব্দ তালিকায় পুস্তিকা, প্রচারপত্র ও প্রশিক্ষণ নির্দেশিকার উল্লেখ করা হলেও সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কোনোটিতেই সংগঠনের নাম নেই। প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা বলে যা দাবি করা হচ্ছে, সেটা ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা আগ্নেয়াস্ত্র পরিচিতির একটি বাঁধানো বই।
এদিকে সরেজমিনে ঠনঠনিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ‘দেওয়ান বাড়ি’ নামের টিনশেডের বাসাটির আশপাশে ২০-৩০টি ছাত্রাবাস ও চার-পাঁচটি বসতবাড়ি রয়েছে। পাশের বাড়ির মাহবুর হোসেন বলেন, বাসাটির মালিক দুলাল হোসেন অন্য এলাকায় থাকেন। এ মাসের প্রথম দিক থেকে বাসাটিতে কিছু তরুণকে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছিল। কেউ পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলতেন, বাসাটিতে তাঁরা কোচিং সেন্টার চালাচ্ছেন।
0 comments:
Post a Comment