Searching...

Popular Posts

Friday, August 23, 2013

আবর্জনার স্তূপে বস্তাবন্দী লাশের টুকরা, হাড়গোড়

11:00 PM
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইলে গতকাল শুক্রবার সকালে সিটি করপোরেশনের আবর্জনা ফেলার স্থান থেকে বস্তাবন্দী লাশের টুকরা ও হাড়গোড় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলেছে, খুলি ও কয়েকটি টুকরা সাজিয়ে একজন পুরুষ ও একজন নারীর লাশ থাকার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি টুকরা ও হাড়গোড় অন্য কতজনের, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, মাতুয়াইলের মৃধাবাড়ীসংলগ্ন ওই আবর্জনার স্তূপের পশ্চিম অংশে ভোরে কয়েকজন টোকাই চারটি প্লাস্টিকের বস্তা খুলে মানুষের খুলি, হাড়গোড় দেখে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জানায়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিষয়টি জানান যাত্রাবাড়ী থানায়। পুলিশ সকাল নয়টার দিকে সেখানে গিয়ে দুটি মাথার খুলি, সাতটি পা, তিনটি হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। সব মিলিয়ে ১৬টি টুকরা ও ১৩টি হাড়গোড় পাওয়া যায়। এগুলো শুকিয়ে অনেকটা কালচে হয়ে গেছে। কতজনের লাশ, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মানুষের আকৃতি অনুযায়ী টুকরাগুলো সাজায়। এতে একজন পুরুষের আকৃতি মেলানো গেছে। আরেকটির আংশিক আকৃতি পাওয়া গেছে। এটির হাতের নখে নেইল পলিশ-জাতীয় আবরণ থাকায় তা একজন নারীর বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও কিছু টুকরা ও হাড়গোড় রয়েছে।
দুপুরে মাতুয়াইলে গিয়ে দেখা যায়, লাশের টুকরা ও হাড়গোড় থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা। সেখানে পুলিশ, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের কর্মীরা ছাড়াও উৎসুক মানুষের ভিড়।
পুলিশের ডেমরা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মিনহাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, টুকরাগুলো মোট কতটি লাশের, তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, টুকরাগুলো দেখে শনাক্ত করার উপায় নেই। কয়েকটি টুকরা স্ক্রু ও নাট-বল্টু দিয়ে আটকানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লাশগুলো অনেক দিন আগের। তবে কত আগের, তা বলা যাচ্ছে না।
মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের কোন গাড়িযোগে রাজধানীর কোন জায়গা থেকে এই বস্তাগুলো আনা হয়েছে, তা তদন্ত করে বের করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ হারুন বলেন, সিটি করপোরেশনের গাড়িগুলো ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আবর্জনা নিয়ে রাত ১১টা থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত স্তূপের পশ্চিম অংশে এবং এর পর থেকে সারা দিন পূর্ব অংশে আবর্জনা ফেলে। পশ্চিম অংশে লাশের টুকরার বস্তাগুলো থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কোনো স্থান থেকে আবর্জনা মনে করে বস্তাগুলো গাড়িতে তুলে এনে সেখানে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পুরো এলাকার আবর্জনা ছাড়াও বাড্ডা, গুলশান, বনশ্রীসহ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কিছু জায়গা থেকেও আবর্জনা এনে এখানে ফেলা হয়।
নিখোঁজ শ্যালকের সন্ধানে: দুপুরে ওই আবর্জনার স্তূপে উৎসুক জনতার মাঝে দেখা গেল মো. রিপন নামের এক যুবক একজনের পাসপোর্ট আকারের একটি ছবি নিয়ে লাশের টুকরা ও হাড়গোড়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছবিটি তাঁর শ্যালক মিজানুর রহমানের। গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় শাহজাহানপুরের রনি নামের এক যুবক তাঁকে মুগদার বাসা থেকে ডেকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান। এর পর থেকে মিজানুরের খোঁজ নেই। এ ঘটনায় রনিকে আসামি করে থানায় মামলাও হয়েছে। কিন্তু হদিস মেলেনি তাঁর শ্যালকের।
রিপন বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের খবর শুনে আসছি। এখন দেখি, লাশ চেনারও উপায় নেই।’
যোগাযোগ করা হলে মিজানুরের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুজ্জামান বলেন, ‘ওই মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মাতুয়াইলের লাশের টুকরার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের কাছ থেকে খোঁজখবর নেব।’

0 comments:

Post a Comment