Searching...

Popular Posts

Saturday, August 17, 2013

রাজধানীতে স্ত্রীসহ এসবির ইন্সপেক্টর খুন, মেয়ে ও গৃহকর্মী নিখোঁজ

3:24 AM
রাজধানীর চামেলীবাগের নিজ বাবায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইন্সপেক্টর ও তার স্ত্রী খুন হয়েছেন। নিহতরা হলেন মো. মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় চামেলীবাগের ২ নম্বর বাসার ৫ম তলার ফ্ল্যাট থেকে ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান এবং তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে তাদের একমাত্র মেয়ে ‘ও’ লেভেলের ছাত্রী ঐশী (১৭) এবং তাদের এক গৃহকর্মী সুমি। পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ওহি (৭) এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটেছে—সে বিষয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক বলে পুলিশ মনে করছে। পুলিশ জানায়, প্রতিবেশীরা ওই বাসা থেকে গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। তাদের দুজনের শরীরেই ছুরিকাঘাতের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি আশরাফুজ্জামান জানান, মাহফুজ ও তার স্ত্রীকে খুন করে বাসার বাথরুমে ফেলে রাখা হয়েছে। তাদের শরীরে অনেক রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ ও অন্যান্য সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত ১১টায় অফিস শেষ করে বাসায় ফেরেন মাহফুজ। রাতে মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে তার মেয়ে ঐশীর কথাকাটাকাটি হয়। পরদিন সকালে রাগ করে মৌচাকে তিশা নামে এক বান্ধবীর বাসায় যায় ঐশী। সঙ্গে তার ছোট ভাই ও গৃহকর্মী সুমি ছিল। রাত ৩টায় ঐশী ফোন দেয় তার এক খালু ও অপর এক মামাকে। মামা তাদের রাগারাগির ঘটনা শুনে চামেলীবাগের বাসায় যান গতকাল বেলা ১২টায়। এ সময় তিনি দেখতে পান বাসার দরজায় তালা ঝুলছে। ভেতর থেকে গন্ধ আসতে থাকে। এরপর তিনি ফিরে যান এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। বিকালে তারা পুলিশকে খবর দেন। বিকাল ৪টায় পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
এদিকে ঐশী তার ছোট ভাই ওহিকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে বাসায় ফেরত পাঠায়। কিন্তু ঐশী আর বাসায় ফিরে আসেনি।
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, সন্ধ্যায় চামেলীবাগের ওই বাসা থেকে মাহফুজসহ তার স্ত্রী স্বপ্নার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় মাহফুজ, তার স্ত্রী, দুই ছেলেমেয়ে ও গৃহকর্মীসহ থাকতেন। ‘ও’ লেভেলে পড়া মেয়ে ঐশী ও গৃহকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলে ওহি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। নিহতদের উদ্ধার করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মোটিভ এখনও পরিষ্কার নয়। কী কারণে, কারা তাদের দুজনকে হত্যা করল—তা বের করতে পুলিশ ও র্যাব কাজ শুরু করেছে। পুলিশের ওই সূত্র জানায়, নিহত দম্পতির মেয়ে ঐশীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঐশীর খোঁজ পাওয়া গেলেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

0 comments:

Post a Comment