কুষ্টিয়ায় পর্নো ভিডিও তৈরির মূল হোতা শিক্ষক পান্নাসহ দুই প্রকৌশলী
এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের গ্রেফতারের দাবিতে দিন দিন ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক ও প্রকৌশলীকে গ্রেফতারারের দাবিতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধও
করছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মানুষ। এরই মধ্যে কয়েকটি টেলিভিশন
চ্যানেলে এ ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর আলোচনার ঝড় উঠেছে সর্বমহলের
মানুষের মাঝে।
পর্নো ভিডিও তৈরির ঘটনায় দুটি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে একজন। পান্না মাস্টারসহ অপর তিনজন রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটানর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকায় পুলিশ আসামিদের আটক করছে না। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কুষ্টিয়ার বাড়াদি গ্রামের আদর্শ মাধ্যমিক গণিতের শিক্ষক পান্না মাস্টার। তার বাসায় টিউশনির নাম করে দেড় শতাধিক ছাত্রীকে তার লালসার শিকার বানিয়েছেন। লালসার শিকার এসব ছাত্রীর বেশিরভাগই অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর। এরা পরবর্তী জীবনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও শিক্ষক পান্নার হাত থেকে রেহাই পায়নি। ঘটনার ধারণকৃত চিত্র ও ছবি ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাদের ভোগ করে আসছেন পান্না। শুধু পান্না মাস্টার একাই নন, এ ঘটনার সঙ্গে দুই প্রকৌশলীও রয়েছেন। এদের একজন সাদা মনের মানুষখ্যাত প্রকৌশলী টুটুল।
এসব ছাত্রীকে শুধু লালসার শিকার বানিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। অন্তরঙ্গ মিলন দৃশ্য ধারণ করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে নানা ফন্দি-ফিকিরে হাতিয়ে নিয়েছে অর্থও।
সম্প্রতি তার এই বিকৃত যৌন কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে গেছে। এলাকার যুবকদের মোবাইলে তা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে।
এরপর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে। বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি তদন্তের জন্য ঈদুল ফিতরের পর কুষ্টিয়ায় আসবে বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনার পর থেকে লালসার শিকার হওয়া শিক্ষার্থীরা বর্তমানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছে। এরই মধ্যে পান্না মাস্টারের স্ত্রী চুমকী তার লম্পট স্বামীকে ডির্ভোস দিয়েছেন। সাদা মনের মানুষখ্যাত প্রকৌশলী টুটুলের ভাগ্যেও একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পান্না মাস্টারসহ এক প্রকৌশলী বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন। এ জন্য প্রশাসনকে মোটা অংকের উেকাচ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চলছে।
অষ্টম শ্রেণী থেকে পান্নার যৌন লালসার শিকার এক ছাত্রী। সে বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। তারপরও পান্নাকে নিয়মিত সময় দিতে হয় তাকে। ওই ছাত্রী জানায়, ‘পরিকল্পনা করে তিনি (পান্না মাস্টার) এগুলো করতেন। আর এখন ছবি-ভিডিওতে প্রকাশের ভয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে এ কাজ করতে হচ্ছে। আমি সত্যিকার অর্থে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। খুবই খারাপ লাগছে। এ নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’
পান্না মাস্টারের সঙ্গে নগ্নদৃশ্যের ছবি অন্যের মোবাইলে দেখার পর এরই মধ্যে ১১টি মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আর এতেই এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সুরাইয়া সুলতানা শিখা বলেন, ‘নিজের সন্তানরা কোথায় কী করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, সেগুলো অভিভাবক হিসেবে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার।’
উদীচী কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দি বলেন, ‘এই বিকৃত মানসিকতা থেকে বের হতে আইনের প্রয়োগের চেয়ে বেশি দরকার সামাজিক সচেতনতা।’
বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সেতুর নির্বাহী বলেন, ‘পরবর্তীকালে যাতে আমাদের আরও দশটি মেয়ে এই ধরনের বিকৃত ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য এখনই সবাইকে সচেতন হওয়া দরকার।’
এদিকে পর্নো ভিডিও প্রকাশের ঘটনা কুষ্টিয়া জনজীবনের ওপর ভিন্ন এক মাত্রা তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষক ও কালচারাল অঙ্গনের দুই প্রতিনিধি এ ঘটনার মূল হোতা হওয়ায় সমাজে এক ধরনের আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে।
একদিকে পান্না মাস্টার কুষ্টিয়ার সব শিক্ষককে বিতর্কের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। বিশেষ করে প্রাইভেট শিক্ষকদের চরিত্রকে এ ঘটনা জোরালোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিভাবকরা বর্তমানে প্রাইভেট টিউটরদের কাছে আদরের মেয়েকে পাঠাতে কুণ্ঠাবোধ করছেন।
অপর দিকে সংস্কৃতিসেবী প্রকৌশলী টুটুলের যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কালচারাল অঙ্গনে। বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে মেয়েশূন্য হয়ে পড়েছে।
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা পান্না মাস্টারসহ সংশ্লিষ্ট সবার শাস্তি দাবি করছে।
পর্নো ভিডিও তৈরির ঘটনায় দুটি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে একজন। পান্না মাস্টারসহ অপর তিনজন রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটানর সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকায় পুলিশ আসামিদের আটক করছে না। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কুষ্টিয়ার বাড়াদি গ্রামের আদর্শ মাধ্যমিক গণিতের শিক্ষক পান্না মাস্টার। তার বাসায় টিউশনির নাম করে দেড় শতাধিক ছাত্রীকে তার লালসার শিকার বানিয়েছেন। লালসার শিকার এসব ছাত্রীর বেশিরভাগই অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর। এরা পরবর্তী জীবনে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও শিক্ষক পান্নার হাত থেকে রেহাই পায়নি। ঘটনার ধারণকৃত চিত্র ও ছবি ফাঁস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাদের ভোগ করে আসছেন পান্না। শুধু পান্না মাস্টার একাই নন, এ ঘটনার সঙ্গে দুই প্রকৌশলীও রয়েছেন। এদের একজন সাদা মনের মানুষখ্যাত প্রকৌশলী টুটুল।
এসব ছাত্রীকে শুধু লালসার শিকার বানিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। অন্তরঙ্গ মিলন দৃশ্য ধারণ করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে নানা ফন্দি-ফিকিরে হাতিয়ে নিয়েছে অর্থও।
সম্প্রতি তার এই বিকৃত যৌন কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে গেছে। এলাকার যুবকদের মোবাইলে তা ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে।
এরপর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে। বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পর্যন্ত গড়িয়েছে। মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি তদন্তের জন্য ঈদুল ফিতরের পর কুষ্টিয়ায় আসবে বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনার পর থেকে লালসার শিকার হওয়া শিক্ষার্থীরা বর্তমানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছে। এরই মধ্যে পান্না মাস্টারের স্ত্রী চুমকী তার লম্পট স্বামীকে ডির্ভোস দিয়েছেন। সাদা মনের মানুষখ্যাত প্রকৌশলী টুটুলের ভাগ্যেও একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পান্না মাস্টারসহ এক প্রকৌশলী বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন। এ জন্য প্রশাসনকে মোটা অংকের উেকাচ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চলছে।
অষ্টম শ্রেণী থেকে পান্নার যৌন লালসার শিকার এক ছাত্রী। সে বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। তারপরও পান্নাকে নিয়মিত সময় দিতে হয় তাকে। ওই ছাত্রী জানায়, ‘পরিকল্পনা করে তিনি (পান্না মাস্টার) এগুলো করতেন। আর এখন ছবি-ভিডিওতে প্রকাশের ভয়ে অনেকটা বাধ্য হয়ে এ কাজ করতে হচ্ছে। আমি সত্যিকার অর্থে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। খুবই খারাপ লাগছে। এ নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’
পান্না মাস্টারের সঙ্গে নগ্নদৃশ্যের ছবি অন্যের মোবাইলে দেখার পর এরই মধ্যে ১১টি মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আর এতেই এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সুরাইয়া সুলতানা শিখা বলেন, ‘নিজের সন্তানরা কোথায় কী করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, সেগুলো অভিভাবক হিসেবে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার।’
উদীচী কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দি বলেন, ‘এই বিকৃত মানসিকতা থেকে বের হতে আইনের প্রয়োগের চেয়ে বেশি দরকার সামাজিক সচেতনতা।’
বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সেতুর নির্বাহী বলেন, ‘পরবর্তীকালে যাতে আমাদের আরও দশটি মেয়ে এই ধরনের বিকৃত ঘটনার শিকার না হয়, সে জন্য এখনই সবাইকে সচেতন হওয়া দরকার।’
এদিকে পর্নো ভিডিও প্রকাশের ঘটনা কুষ্টিয়া জনজীবনের ওপর ভিন্ন এক মাত্রা তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষক ও কালচারাল অঙ্গনের দুই প্রতিনিধি এ ঘটনার মূল হোতা হওয়ায় সমাজে এক ধরনের আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে।
একদিকে পান্না মাস্টার কুষ্টিয়ার সব শিক্ষককে বিতর্কের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। বিশেষ করে প্রাইভেট শিক্ষকদের চরিত্রকে এ ঘটনা জোরালোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিভাবকরা বর্তমানে প্রাইভেট টিউটরদের কাছে আদরের মেয়েকে পাঠাতে কুণ্ঠাবোধ করছেন।
অপর দিকে সংস্কৃতিসেবী প্রকৌশলী টুটুলের যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কালচারাল অঙ্গনে। বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে মেয়েশূন্য হয়ে পড়েছে।
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এলাকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা পান্না মাস্টারসহ সংশ্লিষ্ট সবার শাস্তি দাবি করছে।
0 comments:
Post a Comment