Searching...

Popular Posts

Friday, August 23, 2013

চোরাই গবাদিপশু নিয়ে যা হলো

11:44 PM
মেহেরপুরের মুজিবনগরে গত বৃহস্পতিবার সকালে আটক চোরাই পথে আসা ৪৮টি গরু-মহিষ ও এক ভারতীয় চোরাকারবারিকে বিকেলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার (এসপি) আটক ওই ভারতীয়কে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য গরু-মহিষগুলো ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোফাজ্জেল হোসেন জানান, আটক ব্যক্তি নিজেকে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বসিন্দা ও বাগোয়ান ইউপির চেয়ারম্যানের ভাই বলে দাবি করেছেন। পরে ওই ইউপি চেয়ারম্যান মুচলেকা দিলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন জানান, সিরাজুল ইসলাম নামে তাঁর কোনো ভাই নেই। তিনি কাউকে ছেড়ে দিতে এসপির কাছে মুচলেকাও দেননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা চোরাচালানবিরোধী টাস্কফোর্স বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সোনাপুর সীমান্তের ১০৬ নম্বর মেইন পিলারের কাছের একটি মাঠ থেকে অবৈধভাবে আনা ৩৬টি গরু, ১২টি মহিষ ও এক ভারতীয়কে আটক করে। এ সময় সেখানে টাস্কফোর্সের সভাপতি ও মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বাগোয়ান ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও মোকতার হোসেন অভিযোগ করেন, ভারতীয় নাগরিককে পুলিশে সোপর্দ ও গবাদিপশুগুলো ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ফ্যাক্সে জানানো হয়। অথচ এসপির নির্দেশে আটক ভারতীয় নাগরিককে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, সোনাপুর সীমান্তসংলগ্ন ওই মাঠে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় গরু-মহিষের অবৈধ হাট বসে। মেহেরপুরের কয়েকজন প্রভাবশালী এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁরা পুলিশকে ঘুষ দিয়ে সিরাজুলকে ও গরু-মহিষ ছাড়িয়ে নিয়েছেন।
মুজিবনগর থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, থানায় আনার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভারতীয় নাগরিককে মেহেরপুরে পাঠানো হয়। সেখানে নিজেকে সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা পরিচয় দিলে এসপি তাঁকে ছেড়ে দেন।
বাগোয়ান ইউপির সদস্য সোহরাব হোসেন জানান, প্রভাবশালী একটি চক্রের চাপে তিনি গবাদিপশুগুলো ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তবে তিনি ওই চক্রের সদস্যদের নাম বলেননি।

0 comments:

Post a Comment