Searching...

Popular Posts

Wednesday, August 14, 2013

মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক ইজারার নামে আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ বাণিজ্য

4:39 AM
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মহামায়ার প্রবেশ পথে রীতিমত গেট বসিয়ে টিকিট ছাপিয়ে টাকা আদায় করছে আওয়ামী লীগ নেতাদের সিন্ডিকেট। ঈদের দিন থেকে পরবর্তী দুদিন তারা আয় করেছেন প্রায় ৬ লাখ টাকা।
কিন্তু বন বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান ইজারার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে বলেন, তারা এখনও কাউকে মহামায়া ইজারার কার্যাদেশ দেননি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন বড়ুয়া বলেন দ্বিতীয় বৃহত্তম ওই সেচ প্রকল্পের বাঁধটি একটি স্পর্শকাতর এলাকা। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি ছাড়া বন বিভাগ ওই এলাকা ইজারা দিতে পারে না। ২৯ নভেম্বর ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে মহামায়ার কৃত্রিম সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
অপরদিকে ইজারাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সুফিয়ান বিপ্লব জানান, অফিসিয়াল কাগজপত্র পেয়ে তাদের সিন্ডিকেট টাকা আদায় করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন এখনও তিনি ইজারার কার্যাদেশ পাননি। তিনি জানান, তার সঙ্গে এ কাজে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের ২০-২৫ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সমর্থক জড়িত আছেন।
ঈদুল ফিতরের দিন থেকে গত রোববার পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট
ইজারার নামে মহামায়ায় আসা দর্শনার্থীর কাছ থেকে প্রবেশ ফি মাথাপিছু ১০ টাকা , লেকে প্রতি বোর্ড থেকে (প্রতিটি) ৩০০ টাকা, গাড়ি পার্কিং সিএনজি ১০ টাকা, কার-মাইক্রো ২০ টাকা হারে অবৈধ অর্থ আদায় করছে। মহামায়ার লেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা, গাড়ি পার্কিং, অস্থায়ী দোকান থেকে তারা ইজারার নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে। ভালোই চলছিল তাদের অবৈধ বাণিজ্য। কিন্তু গত রোববার বিকাল প্রায় ৪টায় কলেজছাত্র কফিল লেকের পানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত কফিলকে উদ্ধার করা যায়নি। এ ঘটনার পর এলাকার সবার মধ্যে প্রশ্ন জাগে কথিত ইজারাদারদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। খোঁজ নিলে জানা যায় এখনও ইজারার কার্যাদেশই হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগের ওই সিন্ডিকেট অবৈধভাবে টাকা আদায় শুরু করেছে। আর নিখোঁজ কফিলের সহপাঠীরা অভিযোগ করেছে কথিত ইজারাদারদের অব্যবস্থাপনার কারণেই কফিল নিখোঁজ হয়েছে।
ইজারাদার সিন্ডিকেটের প্রতিনিধি আওয়ামী লীগ নেতা আবু সুফিয়ান ওরফে বিপ্লব জানান, ইজারা নিতে তার লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইজারার ৪৮ লাখ টাকাতো একা জোগাড় করা সম্ভব নয় তাই ২৫ জন থেকে এই টাকা সংগ্রহ করা হবে। এরই মধ্যে তিনি ২০ জনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। তিনি এখনও কার্যাদেশ পাননি বলে স্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেন জানান, ‘ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার আগে টাকা উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। বর্তমানে আমরা ওই সিন্ডিকেটের অবৈধ টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে আমরা চলতি বছর মে মাস থেকে লেকে বোট চালানো বন্ধ রেখেছিলাম। একটি মহল তা চালু করেছিল, সোমবার আমি নিজেই তা বন্ধ করে দিয়েছি।’
বনবিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চলতি বছর ১১ জুন দুটি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে মহামায়া ইকো-পার্কের গেট ও লেক ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র সংক্রান্ত শিডিউল ক্রয়ের শেষ তারিখ ছিল ২৬ জুন। জমা করা দরপত্র খোলা হয় ২৭ জুন। ওইদিন সর্বোচ্চ দামে ইজারা পায় আহসান ট্রেডিং। বনবিভাগের ইজারা শর্তানুযায়ী প্রথমে মহামায়া লেক এলাকাকে ইকো-পার্কের আদলে গড়তে সীমানা প্রাচীর, নিরাপত্তা ও গেট নির্মাণ করা হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ পত্র (ওয়ার্ক অর্ডার) দেয়া হবে। এছাড়া বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সিলমোহরযুক্ত টিকিট ছাপিয়ে নির্দিষ্ট হারে দর্শনার্থী থেকে প্রবেশ মূল্য আদায় করতে পারবে। গাড়ি পার্কিং থেকে টাকা আদায়ের কথাও ইজারা দরপত্রে উল্লেখ নেই। অথচ ইজারার সব শর্তভঙ্গ করে আহসান ট্রেডিং নামে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইকো-পার্ক কর্তৃপক্ষ দাবি করে টিকিট ছাপিয়ে গাড়ি পাকিং, দর্শনার্থী এবং লেকে চলা ইঞ্জিনচালিত বোট থেকে টাকা আদায় করেছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ‘মহামায়া সেচ প্রকল্প এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড অথবা বনবিভাগ কোনো নুতন কার্যক্রম হাতে নিতে হলে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন বড়ুয়া জানান, এ সংক্রান্ত কোনো আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার গোবানীয়া বিট এলাকায় ৪ হেক্টর পরিমাণ জায়গায় নির্মাণ করে মহামায়া সেচ প্রকল্প। এতে সৃষ্টি হয় ১১ বর্গকিলোমিটারের একটি কৃত্রিম লেক। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মহামায়া এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। এরপর গত তিন বছরে সরকার ইকো-পার্ক কিংবা পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে এখানে কোনোরকম প্রকল্প হাতে নেয়নি। বর্তমানে প্রাথমিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াই সরকারের বনবিভাগ ‘ইকো-পার্ক’ নাম দিয়ে বেসরকারি খাতে ইজারা দিতে সরব হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে চলছে বনবিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে রশি টানাটানি।

0 comments:

Post a Comment