পুঠিয়া (রাজশাহী) : রাজশাহীর পুঠিয়ায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি দেখা দিয়েছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় অভিনব কায়দায় চিহ্নিত এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে হচ্ছে চাঁদাবাজি। থানা পুলিশ উপজেলার তালিকাভুক্ত প্রায় সাড়ে ৪শ’ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক না করে প্রতি মাসে মাসোহারার বিনিময়ে সার্বিক সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার তালিকাভুক্ত প্রায় ৫ শতাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাজনৈতিক সহযোগিতায় প্রকাশ্যে বিচরণ করায় এলাকায় বেড়ে গেছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই।
জানা গেছে, থানা ও হাইওয়ে পুলিশের অবহেলায় সম্প্রতি উপজেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ঈদকে সামনে রেখে ৩টি বাসে ডাকাতি ও ৩টি মোটরসাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে লোকজন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নিরাপত্তার অভাবে মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া চলতি মাসের প্রথমে বানেশ্বর বাজারে এসএ পরিবহনের শাখা অফিসে অস্ত্রের মুখে ম্যানেজারকে জখম করে নগদ প্রায় লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। গত ১৬ আগস্ট শিলমাড়িয়া-বাসুপাড়া বাজার এলাকায় জামায়াত নেতা আ. সালামের বাড়ি ও বাড়ির নিচতলায় ওষুধের দোকানে ৭/৮ জনের একটি অস্ত্রধারী ডাকাত দল হামলা চালিয়ে গহনা, নগদ অর্থসহ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গরুসহ বিভিন্ন চুরি বেড়ে গেছে। এসব ঘটনায় থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছেন। অপরদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের বিশেষ সহায়তায় গড়ে উঠেছে অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ দল। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিসহ লুটপাট করছে। এদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের জামিরা গ্রামে জুয়াড়ি ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বানেশ্বর কলেজের ডিগ্রির প্রথমবর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম জুয়াড়িদের হাতে নিহত হয়। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা মোস্তফা থান্দার বাদী হয়ে গত ২৬ এপ্রিল ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলেও পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তাদের আটক করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়দা খানের কাছে বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি ভালো। আগের ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) : নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঈদ উত্সবকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজরা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে সম্পন্ন হয়েছে এসব চাঁদাবাজি। বিশেষ করে অনুমোদনবিহীন অস্বাস্থ্যকর ভেজাল লাচ্ছা সেমাইয়ের বাজারজাত করার ‘নিরাপত্তার’ মোড়কে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ঈদের আগে ও পরে ব্যবসা নিরাপদ রাখতে ওই চাঁদা আদায় করা হয়েছে। প্রশাসন ‘বশ’ করতে চাঁদার ভাগবাটোয়ারা হয়েছে বলে একই অভিযোগে প্রকাশ। সেমাইয়ের মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ঢালাওভাবে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়ায় লাচ্ছা সেমাইর বৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। নীলফামারীর বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক লাচ্ছা তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার বেশিরভাগের বিএসটিআই অনুমোদন নেই। নেই কোনো স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বাংলাদেশ ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি আখতার সিদ্দিকী পাপ্পু জানান, অবৈধ লাচ্ছা ব্যবসায়ীদের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে এসব বন্ধে।
গজারিয়া : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেঙ্গারচর গ্রামে দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৩১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া গজারিয়া উপজেলার টেঙ্গারচর ইউনিয়নে শনিবার বিকালে অস্থায়ী একটি পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের ৩ দিনের মাথায় গজারিয়া থানায় পাল্টাপাল্টি ওই মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার সকালে জেলার গজারিয়া থানায় আ.লীগের পক্ষে মো. নাসির বাদী হয়ে টেঙ্গারচর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। কিছুক্ষণ পর পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করেন বিএনপি কর্মী মো. শাহাদাত। ২৩ আ.লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করে তিনি গজারিয়া থানায় পাল্টা এ মামলা দায়ের করেন।
গজারিয়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আ.লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের করার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দিনের আলো ফুরিয়ে আসতে না আসতেই বিপথে যাওয়া মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। একশ্রেণীর মানুষ ও কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনের মদতে সুকৌশলে বিভিন্ন ইউনিয়নে রাতভর চালায় জুয়া খেলা আর মদ গাঁজার আসর। আর এতে লেনদেন হয় হাজার হাজার টাকা। এর ফলে একশ্রেণীর মানুষ মাদক সেবনের আড্ডা বসায় বিভিন্ন চিহ্নিত এলাকায়। দিন দিন বিপথে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। আর প্রশাসন রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া, তিস্তারচর, মষিখোচা বাজার, কমলাবাড়ী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণেরবাসা, কুমড়িরহাট, হাজিগঞ্জ, কালিস্থান, সারপুকুর ইউনিয়নের মিলনবাজার ফেডারেশনের পাশে, দুর্গাপুর ইউনিয়নের মান্নানের চৌপতি, মোগলহাট, শঠিবাড়ী, ভাদাই ইউনিয়নের কাচারীবাজার, বুড়িরবাজার পুলেরপাড়, পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ী রেল স্টেশনের উত্তর পার্শে, ভেলাবাড়ী ইউনিয়নসহ প্রতিদিন ওইসব জায়গায় চলে রাতভর মদ, গাঁজা ও ফেনসিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেট কেনাবেচার ধুম এবং এই জায়গাগুলো মাদকের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে চিহ্নিত। সন্ধ্যা হলেই তরুণ থেকে যুবক, মধ্যবয়সী সবাই ওই মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে প্রতিনিয়ত সেবন করে চলেছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়, যেমন—মহিষখোচা বাজার, ব্রাহ্মণেরবাসা, নামুড়ী রেল স্টেশনের উত্তর পাশে প্রকাশ্যে রাত গভীর হলে চলে জুয়ার জমজমাট আসর। আর মরণ নেশায় আসক্ত হয়ে তরুণ বয়সের ছেলেরাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি, বহিরাগতদের আনাগোনা যেন জুয়ার আসরের প্রাণ। একশ্রেণীর অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের মদতেই চলছে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ, যার জন্য মাস গেলে তারা পাচ্ছে মোটা অংকের মাসোয়ারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আমরা একাধিকবার ওই জুয়ার ব্যাপারে প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু সেক্ষেত্রেও প্রশাসনের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে আর বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব জুয়াড়ি।
চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী শীর্ষ চাঁদাবাজ ছালামিনসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গার ভালাইপুর মোড় এলাকা থেকে চাঁদা নেয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করে চুয়াডাঙ্গা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মেহেরপুর জেলার কাঠালপোতা গ্রামের হায়াত আলীর ছেলে ছালামিন বেশ কিছুদিন আগে নিজ নামে একটি গ্যাং গ্রুপ তৈরি করে। এরপর সে মোবাইলে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ধণাঢ্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছিলো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালানো হতো বোমা হামলা।
0 comments:
Post a Comment