Searching...

Popular Posts

Sunday, August 18, 2013

ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থা ভালো নয়: অর্থমন্ত্রী -সরকারি ব্যাংকগুলো দিন দিন খারাপ হচ্ছে

10:15 PM
ছয় মাসের ব্যবধানে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক-গুলোর মূলধন ঘাটতি বেড়ে গেছে সাত হাজার কোটি টাকা। গত ৩১ ডিসেম্বর যে মূলধন ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯৮১ কোটি টাকা, গত ৩০ জুনে তা দাঁড়ায় নয় হাজার ৬২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের কাছে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত স্বীকার করেন, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি ভালো নয়।
সচিবালয়ে গতকাল রোববার ব্যাংকগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে তাই মূলধন দিয়ে পুনঃ অর্থায়ন করা হবে, যা বাজেটে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, মূলধন ঘাটতি পূরণে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। আর চার হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ থেকে কমিয়ে সমন্বয় করতে হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, দুই ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাঃ রাজী হাসান ও এস কে সুর চৌধুরী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এ এইচ এম হাবিবুর রহমান, এমডি প্রদীপ কুমার দত্ত, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল বারকাত, এমডি এস এম আমিনুর রহমান, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার বজলুল হক, এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ, রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহম্মেদ আল কবীর ও এমডি এম ফরিদউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর বাইরে ছিলেন বেসিক ব্যাংকের এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম, বিডিবিএলের চেয়ারম্যান শান্তি নারায়ণ ঘোষ ও এমডি জিল্লুর রহমান। চেয়ারম্যানদের মধ্যে শুধু বেসিক ব্যাংকের আবদুল হাই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথমে কোনো কথা বলতে চাননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব কয়েকটি বাক্যে শেষ করেন তিনি। বলেন, ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলো নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি জানতে তাই বৈঠক ডেকেছি।’
সূত্র জানায়, গভর্নর আতিউর রহমান বৈঠকে বেসিক ব্যাংকের ওপর একটি চিত্র তুলে ধরেন। এতে বেসিক ব্যাংকের পরিস্থিতি দিন দিন কীভাবে খারাপ হলো, তা তুলে ধরা হয়েছে। শুধু বেসিক ব্যাংক নিয়ে অর্থমন্ত্রী আলাদা করে আরেকটি বৈঠক করবেন বলে বৈঠকে জানান। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু বেসিক ব্যাংকের পরিচালক। তিনি বৈঠকে জানান, ব্যাংকটির মৌল ভিত্তি ভালো হচ্ছে।
গত ৩০ জুন বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি টাকা। অথচ ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বরে মূলধন উদ্বৃত্ত ছিল ৭১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পরিসংখ্যান জেনে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকটির ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। ২৭ ব্যাংকের ৬১ শাখার দুই হাজার ৩৪২টি স্বীকৃত বিলের এক হাজার ৩১৬ কোটি টাকা পরিশোধ করছে না সোনালী ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী সোনালী ব্যাংককে তা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।
একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে ঋণের সীমা কমানোর নির্দেশনা চায় অগ্রণী ব্যাংক। হল-মার্কের মতো একক কোনো গোষ্ঠীর কাছে তখন ব্যাংকের পুঁজি জমা হবে না বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে, তার শর্ত শিথিল করতে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের দাবি, এমওইউর কারণে তারা ঋণ দিতে পারছে না। যে কারণে ব্যাংকের পরিস্থিতিও ভালো করা যাচ্ছে না।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের এমডিদের অপসারণ করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। দক্ষতার সঙ্গে ব্যাংক পরিচালনা করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করবে বলে বৈঠকে হুমকি দেওয়া হয়।

0 comments:

Post a Comment