Searching...

Popular Posts

Sunday, August 25, 2013

রনি আবার রিমান্ডে : মা-বাবাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঐশীর জবানবন্দি : হত্যার আগে মা-বাবাকে ছয়পাতা ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় ঐশী

6:03 AM
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আটক মেয়ে ঐশী রহমান বাবা-মা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল সকালে ঢাকার মহানগর হাকিম আনোয়ার সাদাতের আদালতের খাস কামরায় সে জবানবন্দি দেয়। তাদের গৃহকর্মী সুমীও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের দু’জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দিতে ঐশী জানায়, হত্যার আগে সে বাবা-মা’কে ছয়পাতা ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। এরপর তারা অচেতন হয়ে পড়লে প্রথমে সে বাবাকে হত্যা করে। তখন তার মা জেগে উঠলে তিনি পানি খেতে চান। সে তার মাকে পানিও খাওয়ায়। পরে তার মা অচেতন হয়ে পড়লে সে ছুরিকাঘাত করে মাকেও হত্যা করে। এরপর তাদের দু’জনের লাশ বাথরুমে টেনে নিয়ে যায়। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের দায় সে একাই স্বীকার করে মহানগর হাকিমের কাছে জবানবন্দি দেয়। ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনি জবানবন্দি দেয়নি বলে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তাকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে পুলিশের দাবি, বাবা ও মাকে একাই হত্যা করেছে ঐশী। নিহত দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমানের পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে গতকাল বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম একথা জানান। এ ঘটনার জন্য ঐশী সাতদিন আগেই পরিকল্পনা করে।
সস্ত্রীক গোয়েন্দা হত্যাকাণ্ডে আটক ওই তিনজনকে গত ১৮ আগস্ট পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল মহানগর হাকিম। এর মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে ঐশী ও সুমীকে রিমান্ডে পাঠানোর জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও কয়েকজন বিশিষ্টজনের পক্ষ থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ আদালতে অনুমতি নিয়ে ঐশীর বয়স প্রমাণের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তবে ওই পরীক্ষার এখনও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ঐশীকে কঠোর নিরাপত্তায় গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় থেকে মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। তার পরনে ছিল কালো বোরকা। এর আগে তাকে দেখে আদালতপাড়ায় অনেকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় কালো বোরকা পরিয়ে হাজির করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তাকে একপলক দেখার জন্য আদালতপাড়ায় আইনজীবী, কর্মকর্তা ও দর্শনার্থীরা ভিড় করে। উত্সুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে আদালতপাড়ায় পুলিশকে কঠোর বেগ পেতে হয়। অবশ্য সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
পুলিশ রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়েছিল, ঐশী একজন মাদকাসক্ত তরুণী। মাদক সেবনে ও উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে বাধা প্রদান করায় সে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নিয়ে তার বাবা ও মাকে হত্যা করে। পুলিশ আদালতকে জানায়, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ও লেভেলের পড়ার সময় সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এ হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজের ছোট ভাই ও মামলার বাদী মশিউর রহমানের ধারণা, শুধু তার ভাতিজি ঐশী এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী নয়। তার ভাই ও ভাবীকে হত্যা করার পেছনে অন্য কোনো রহস্য থাকতে পারে।
গোয়ন্দা পুলিশের পাঁচদিনের জিজ্ঞাসাবাদে ঐশী তার বাবা ও মাকে লোমহর্ষক হত্যার উদ্দেশ্য ও কারণ জানিয়েছে। আর এসব তথ্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মূলত মাদক সেবনে বাধা দেয়ার কারণে তার বাবা ও মাকে হত্যা করেন সে।
ঐশী কারাগারে : আদালতে ঐশীর জবানবন্দির পর কঠোর নিরাপত্তা সহকারে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার নিরাপত্তার জন্য কারাগারে অন্য বন্দিদের সঙ্গে রাখা হবে না। তবে কাজের মেয়ে সুমীকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে রাখা হবে কারা সূত্রে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১৫ আগস্ট রাতে বাবা-মাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ঐশী। হত্যাকাণ্ডের সময় ঐশীর ছোট ভাই ওহী রহমান দেখে ফেলে। একপর্যায়ে ওহীকে বাথরুমে আটকে রাখে ঐশী। ভয় দেখিয়ে ঐশী কাজের মেয়ে সুমীকেও বাথরুমে লাশ নিয়ে যেতে বাধ্য করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার ৭ দিন আগে ঐশী তার বাবা ও মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ সময় ঐশী নিজের কাছে ছুরি রাখতো। পরিকল্পনা অনুযায়ী সে তাদের হত্যা করতে সমর্থ হয়। সে পাঁচদিনের রিমান্ডে থাকাকালে স্বীকার করেছে, বেপরোয়া চলাফেরায় মা-বাবা বাধা দিতো বলেই তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে একাই অচেতন অবস্থায় তার মা-বাবাকে হত্যা করেছে। তার সঙ্গে কেউ অংশগ্রহণ করেনি। তবে পুলিশ তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর চামেলীবাগের চামেলী ম্যানসনের ষষ্ঠতলার বাসা থেকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগের দিন রাতে তাদের ধারাল অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর এ দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান ছোট ভাই ওহী রহমান ও গৃহকর্মীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ বাবা-মাকে হত্যার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার দেখায়।

0 comments:

Post a Comment