Searching...

Popular Posts

Friday, August 23, 2013

অবশেষে শ্রেণীকক্ষ থেকে সাংসদ রনির কার্যালয় অপসারণ

11:05 PM
পটুয়াখালীর গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ থেকে অবশেষে সাংসদ গোলাম মাওলা রনির দলীয় কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে রনির অনুসারীরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কক্ষটির চাবি হস্তান্তর করেন।
চাবি হাতে পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ কক্ষটি সংস্কার করে শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করার কাজ শুরু করেছে। আড়াই বছর ধরে বিদ্যালয়ের ওই কক্ষ অবৈধভাবে দখলে রেখে সেটি রনির দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় সম্প্রতি প্রথম আলোতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহআলম মিয়া জানান, ওই কক্ষটি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া চেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের (রনি-সমর্থিত অংশ) সভাপতি মো. রেজাউল করিম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল আলম আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে কক্ষটি ভাড়া দেওয়া হয়। চুক্তি অনুসারে এক লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে কক্ষটি ভাড়া নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি।
পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মু নাসির উদ্দিন জানান, সাংসদের চাপে পড়ে ওই সময় পর্ষদ কক্ষটি সাংসদের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (মা-২) সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস ২০১১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে পরিচালনা পর্ষদের কাছে কার্যালয়টি অপসারণের নির্দেশ দেন। পরে ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি কক্ষটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা রেজাউল করিম ও সহিদুল আলমের কাছে প্রধান শিক্ষক নোটিশ পাঠান। এ বছরের ১৮ আগস্ট প্রধান শিক্ষক আবারও নোটিশ দেন কক্ষটির দখল ছাড়ার জন্য।
এ প্রসঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) সকালে আমরা কক্ষটির চাবি হাতে পেয়েছি। ওই কক্ষে তাঁদের (সাংসদের অনুসারীদের) কিছু মালামাল আছে। সেগুলোর তালিকা করে রাখা হয়েছে।’
পর্ষদের সদস্য মো. খসরু মিয়া বলেন, মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় পাওনা টাকা পরিশোধ করা হবে বলে সাংসদের অনুসারীদের সঙ্গে কথা হয়েছে।
রেজাউল করিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ কক্ষটি ছাড়ার নোটিশ দেওয়ায় আমরা সেটি ছেড়ে দিয়েছি।’
তবে মো. সহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের কারও কাছে কিছু না বলেই কর্তৃপক্ষ কক্ষটি দখলে নিয়ে নিয়েছে।’

0 comments:

Post a Comment