ঝিনাইগাতী গারো পাহাড়ের রাংটিয়া রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দিন দিন
বাড়ছে পাহাড়ের ঢালুতে অবৈধ বসতি। দখল হয়ে গেছে কমপক্ষে দুই হাজার একর
সরকারি বনভূমি। স্থানীয় বনবিভাগের ছত্রছায়ায় দিন দিন এসব অবৈধ বসতি গড়ে
উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সাবেক বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই
এই বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং
গারো পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও বন ধ্বংস করা
হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সংঘবদ্ধ কাঠচোর সিন্ডিকেট সরকারি
শাল-গজারি বাগান কেটে সাবাড় করছে বলেও জানা গেছে। জানা গেছে, ওইসব অবৈধ
দখলবাজের দেখাদেখি গোটা গারো পাহাড়েই এখন গড়ে উঠেছে ঘন বসতি। এসব দখলবাজের
মধ্যে বনবিভাগের সৃজিত বাগানের অংশীদার, কাঠচোর পর্যন্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ
পাওয়া যায়। স্থানীয় বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, দখল প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত
কমপক্ষে দুই হাজার একর জমি দখল হয়ে গেছে, কিন্তু বনবিভাগ বেহাত হয়ে যাওয়া
জমি উদ্ধারে নামকাওয়াস্তে মামলা ঠুকে দিয়েই দায়িত্ব শেষ মনে করায় দিন দিন
দখলের পরিমাণ বাড়ছে বনবিভাগের বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি অথচ এ ব্যাপারে
নেই কোনো প্রতিরোধ-প্রতিকার। রাংটিয়া রেঞ্জ অফিসের কাছে সৃজিত বাগানের
অংশীদার কুখ্যাত ভূমিদস্যুর তত্কালীন রাংটিয়া বিট অফিসারের যোগসাজশে ওই
সৃজিত বাগানেরই ৫-৭ একর সরকারি বাগান ধ্বংস করে দখলে নিয়ে রীতিমত বাড়ি-ঘর
তৈরি করে রয়েছে বহাল তবিয়তে। অথচ বনবিভাগ উচ্ছেদের ব্যাপারে নেয়নি কোনো
কার্যকর ব্যবস্থা। ফলে তাদের দেখাদেখি আরও লোকজন দখল করেছে সরকারি বনভূমি।
তৈরি করেছে অবৈধ বাড়ি-ঘর। বাড়ছে দখল প্রক্রিয়া। এ ব্যাপারে রাংটিয়া রেঞ্জ
অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বনবিভাগের এই বিপুল পরিমাণ জমি দখলের
কথা স্বীকার করে বলেন, তার আমলে কোনো বনভূমি জবরদখল হয়নি। সবই তার আগের
রেঞ্জ অফিসারদের আমলে হয়েছে। তবে ওইসব জবরদখল করা জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। বনবিভাগের বিপুল পরিমাণ সৃজিত বাগান
ধ্বংস করে ওইসব জমিতে অবৈধ বসতি নির্মাণের কথা স্বীকার করে কুখ্যাত
ভূমিদস্যু ‘মানিক’ বলেছে, তারা বাড়ি তৈরি করেছে ৩-৪ বছর আগে। এখানে শুধু সে
একা নয়, বনবিভাগের জমিতে এই রকম শত শত বসতি রয়েছে অনেকেরই। বিট অফিসাররা
বলেন, এসব জমি তাদের আমলে দখল হয়নি। তবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা
দেয়া হয়েছে এবং উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া বনজ সম্পদ
জবরদখল এবং মূল্যবান গাছ কেটে লুটের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও
রয়েছে।
উল্লেখ্য, বনবিভাগ এ কুখ্যাত কাঠচোর ও ভূমিদস্যুদের পর্যন্ত সৃজিত বাগানের অংশীদার করায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, বনবিভাগ এ কুখ্যাত কাঠচোর ও ভূমিদস্যুদের পর্যন্ত সৃজিত বাগানের অংশীদার করায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
0 comments:
Post a Comment