Searching...

Popular Posts

Tuesday, August 20, 2013

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নয় বছর সরকারের বাকি মেয়াদে শেষ হচ্ছে না বিচার

10:23 PM
Untitled-8রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর নয় বছর পার হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই ভয়াবহ ঘটনার বিচার শেষ হয়নি।
বর্তমান সরকারের বাকি মেয়াদে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা মামলা দুটি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
অবশ্য সরকারপক্ষের কৌঁসুলিরা দাবি করছেন, তাঁরা মামলার বিচারকাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে জন্য আদালতে বিচার কার্যক্রম সপ্তাহে এক দিনের পরিবর্তে তিন দিন করা হয়েছে।
মামলার মোট সাক্ষী ৪৯১ জন। সরকারপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ পর্যন্ত ৭২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭১ জনের জেরা শেষ হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগপত্রের সব সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে না। মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য যতজন প্রয়োজন, ততজনের সাক্ষ্য নেওয়া হবে। তবে এ সংখ্যা কত হতে পারে, তা বলতে রাজি হননি সৈয়দ রেজাউর রহমান।
তবে মামলাসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বাকি সাক্ষীদের মধ্যে মামলা প্রমাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর সরকারের মন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাহারা খাতুন, ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ৩০ থেকে ৪০ জনের আদালতে সাক্ষ্য নেওয়া হতে পারে। সপ্তাহে তিন দিন বিচারকাজ চলছে, এ হিসাবে আরও ৩০ জনেরও যদি সাক্ষ্য নেওয়া হয়, জেরা শেষ হতে অন্তত আট মাস সময় প্রয়োজন। আর বর্তমান সরকারের মেয়াদ আছে পাঁচ মাসের মতো।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, এখন পর্যন্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, ৬১ জনের সাক্ষ্য জেরা শেষে মামলার অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১২ সালের মার্চে অভিযোগ গঠনের পর এ পর্যন্ত আরও ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
তবে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, ইতিমধ্যে মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু এবং হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান, আবু তাহের, তাজউদ্দিন, মাজেদ বাটসহ জঙ্গি নেতাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে।
মামলার বিচারকাজ নিয়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করেন। সরকারপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমানের অভিযোগ, আসামিপক্ষ নানা কৌশলে বিচার বিলম্বের চেষ্টা করছে।
আর প্রধান আসামি জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানের আইনজীবী ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, সরকার তড়িঘড়ি করে বিচারকাজ শেষ করতে চায়। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, আগে সপ্তাহে এক দিন আদালতে এ মামলার বিচারকাজ হতো, তা এখন সপ্তাহে তিন দিন করা হয়েছে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২২ জন নিহত এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা (একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক আইনে) করে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জোট সরকারের সময় ‘জজ মিয়া নাটক’ সাজিয়ে মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ২০০৭ সালের এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলা দুটির তদন্ত নতুন করে শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল কবীর ২০০৮ সালের ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, হুজির অন্যতম শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। পিন্টু ছাড়া বাকি আসামিরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কর্মী ছিলেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তাতে তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়। উভয় অভিযোগপত্র মিলে মোট আসামির সংখ্যা ৫২।
গত বছরের ১৮ মার্চ হত্যা মামলায় ৫২ জনের বিরুদ্ধে এবং বিস্ফোরক মামলায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিস্ফোরক মামলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাবেক ১১ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেন আদালত।
আসামিদের মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ জন পলাতক, পুলিশের সাবেক ছয় কর্মকর্তা ও বিএনপি-সমর্থিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুর রহমান জামিনে আছেন। বাবর, পিন্টু, মুজাহিদসহ ২৬ আসামি কারাগারে আছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর অস্থায়ী এজলাসে মামলার বিচারকাজ চলছে।
সম্পূরক অভিযোগপত্রের আসামিরা: তারেক রহমান ছাড়াও লুৎফুজ্জামান বাবর, মুজাহিদ, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাংসদ কায়কোবাদ, খালেদা জিয়ার ভাগনে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি খান সাইদ হাসান ও মো. ওবায়দুর রহমান, জোট সরকারের আমলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও এএসপি আবদুর রশীদকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া হুজির ১০ জন নেতা ও হানিফ পরিবহনের মালিককে আসামি করা হয়।
তারেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ: নথিপত্রে দেখা যায়, জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান এ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের নভেম্বরে প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে হামলার পরিকল্পনায় সাবেক উপমন্ত্রী পিন্টু ও তাঁর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম বললেও, তারেক রহমান ও বাবরসহ অন্যদের নাম বলেননি। এরপর মুফতি হান্নান ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা জবানবন্দিতে তারেকসহ বাকি রাজনীতিকদের নাম বলেন। মূলত হান্নানের এই জবানবন্দি এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক সাদিক হাসান রুমি, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মিজানুর রহমান, র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) আতিকুর রহমানের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এসব রাজনীতিককে সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়। তাতে বলা হয়, মুফতি হান্নান বনানীর হাওয়া ভবনে গিয়ে তারেক রহমান, মুজাহিদ, বাবর, হারিছ চৌধুরী, রেজ্জাকুল হায়দার, আবদুর রহিমসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য হামলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশাসনিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তারেক রহমান ও বাবর বলে অভিযোগ আনা হয়।
এই মামলায় গত ৫ মে আদালতে সাক্ষ্য দেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমি। সাক্ষ্যে তিনি বলেন, রেজ্জাকুল হায়দার বিএনপির নেতা তারেক রহমান ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। বাবরের নির্দেশ পেয়ে ২১ আগস্ট ঘটনার রাতেই উদ্ধার হওয়া অবিস্ফোরিত গ্রেনেড দ্রুত ধ্বংস করে আলামত নষ্ট করা হয়।
তারেক রহমান ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। তিনি এখনো সে দেশে আছেন।

0 comments:

Post a Comment