Searching...

Popular Posts

Wednesday, August 14, 2013

রাস্তায় নেমে আসুন : অভিযান সত্ত্বেও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ব্রাদারহুডের

4:56 AM
বিক্ষোভরত মুরসি সমর্থকদের হঠাতে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত বিশেষ অভিযান অগ্রাহ্য করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ব্রাদারহুড। সোমবার বিবিসি ও রয়টার্স এ খবর জানায়। এর আগে মিসরের সেনা সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভরত মুরসি সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়। সোমবার এই অভিযান চালানো হবে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘জোটের পক্ষ থেকে মিসরবাসীকে বিক্ষোভ-সমাবেশে অংশ নেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যে যেখানেই থাকুন না কেন, আন্দোলনে অংশ নিন।’ এছাড়াও আগামী মঙ্গলবার ‘মিলিওন ম্যান মার্চ’-এর ঘোষণা দেয় ব্রাদারহুড।
গত ৩ জুলাই মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই তার মুক্তি এবং পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ব্রাদারহুড। এদিকে মিসরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকরা পুলিশের দমনাভিযান ব্যর্থ করে দিতে দেশবাসীকে রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছে। রাজধানী কায়রোর দুটো বিক্ষোভ শিবির পুলিশ দমনাভিযান চালিয়ে ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয়ার পর মুরসি সমর্থকরা এ বিক্ষোভ ডাকল। পুলিশ সোমবার ভোর থেকেই দমনাভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ওদিকে, মুরসরি দল মুসলিম ব্রাদারহুডসহ এর সমর্থকরা একই দিনে দেশব্যাপী সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
দেশের সব প্রদেশে সোমবার পায়ে হেঁটে রাস্তায় নামা এবং যে কোনো জায়গায় সমবেত হওয়ার জন্য মিসরবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে তারা। তাছাড়া, মঙ্গলবারও মুরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের দাবিতে লাখ লাখ লোকের পদযাত্রা করার কর্মসূচিও এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে মুরসিপন্থীরা। চলতি বছরের ৩ জুলাই সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে রাজধানী কায়রোতে অবস্থান শিবির গড়ে তোলে লাগাতার প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে যাচ্ছে মুরসির হাজার হাজার সমর্থক ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যরা। বর্তমানে কায়রোর দুটি স্থান, রাব্বা আল আদাবিয়া মসজিদ চত্বর ও কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তারা। রোববার মিসরের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবাদকারীদের ঘিরে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করে তাদের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। অবশ্য আরেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা সহিংস না হলে তাদের বিরুদ্ধে সহিংস ব্যবস্থা নেয়া হবে না। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভকারীদের ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয়া হবে। প্রথমে তাদের সতর্ক করা হবে এবং ঘরে ফিরে যেতে বলা হবে। এরপর যারা যাবে না তাদের বিরুদ্ধে জল কামান এবং টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করা হবে। কিন্তু মুরসি সমর্থকরা দমনাভিযান প্রতিহত করার প্রস্তুতি এরই মধ্যে নিয়েছে। তারা তাদের অবস্থানগুলোর চারপাশে বালির বস্তা ও বড় বড় পাথরের স্তূপ জমিয়ে শিবিরগুলোকে প্রায় দুর্গ বানিয়ে রেখেছে। শিবির রক্ষীরা মাথায় মোটরসাইকেল হেলমেট পরে হাতে লাঠি নিয়ে পাহারা দিচ্ছে। এই শিবিরগুলোতে মুরসি সমর্থকদের শিশু সন্তানরাও আছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মিসরজুড়ে প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে।

0 comments:

Post a Comment