Searching...

Popular Posts

Monday, August 19, 2013

আগেও শরবতে বিষ মিশিয়েছিল ঐশী!

4:06 AM
এক মাস আগেও মা-বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঐশী। ছুরি সংগ্রহ করে রেখে দেয় বাসায়। আগেরবার হত্যাচেষ্টা করতে গিয়ে শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বাবার কাছে ধরা পড়ে ঐশী। জানা গেছে, মা-বাবাকে হত্যায় বখাটে বন্ধুরা সহযোগিতা করলেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ঐশী একাই!
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত রমজানে শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে নিজের মাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ঐশী। ঘটনাটি ঘটে ঈদের কয়েকদিন আগে। মায়ের জন্য শরবত বানিয়ে নিয়ে যায় ঐশী।
মা স্বপ্না রহমান সরল বিশ্বাসে সন্তানের দেওয়া শরবত পান করতে যান। তবে বাধ সাধেন বাবা মাহফুজুর রহমান। সন্দেহ থেকে তিনি মেয়েকে বলেন, ‘যে মেয়ে গ্লাসে পানি ঠেলে খায় না। সে আবার মায়ের জন্য শরবত আনল?’ এরপর স্ত্রীকে পান করতে না দিয়ে শরবতের সামান্য পরিমাণ তিনি পান করেন। তেঁতো স্বাদের ওই শরবত পান করে মাহফুজুর রহমান কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি শরবতটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন ঐশী তাঁর মাকে বিষপানে হত্যার চেষ্টা করেন।

সূত্র জানায়, এ ঘটনার পর ঐশীর ওপর কড়াকড়ি আরো বাড়ানো হয়। গত শনিবার স্বপ্নার ছোট বোন সুবর্ণা রাজবাড়ীতে গ্রামের বাড়িতে বিলাপ করে এ ঘটনাটিও সবাইকে জানান। পরিবারের খুব কাছের লোকজন ছাড়া ঐশীর বখে যাওয়ার খবরটি কেউ জানতেন না।

এদিকে ঐশীর মামলা বাদী ঐশির চাচা দাবী করেছেন ঐশী নির্দোষ। কোন কুচক্র মহল তাকে ফাঁসিয়ে দেবার চেষ্টা করছে। একই ধরণের দাবী করেছেন ঐশীর ফুফুরা। তাদের দাবী ঐশী মাদকাসক্ত ছিল না। কোন বিশেষ মহল ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এধরনের বানোয়াট কথাবার্তা ছড়াচ্ছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারের পর একেক সময় একেক রকম কথা বললেও ঐশী অস্বাভাবিক কোনো আচরণ করেনি। শনিবার দুপুরে সে জানায়, এক দিন ধরে তার খাওয়া হয়নি। ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদেও মুষড়ে পড়েনি ঐশী। দু-একবার তার চোখ ছলছল করলেও সে মা-বাবা হত্যায় জড়িত বলে অনুশোচনায় বিলাপ করেনি।
গতকাল দুপুর পৌনে ২টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে থেকে তাকে মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়। জিনসের প্যান্ট আর বেগুনি রঙের ফতুয়ার ওপর একই রঙের ওড়নায় শরীর ঢাকা ছিল তার। মুখমণ্ডল ছিল স্বাভাবিক। আদালতের এজলাসে আসামিদের হাজির করা হয় ঐশীকে। এ সময় ঐশী ও সুমির পরনে বোরকা ছিল। তাদের মাথায় চাদরে আবৃত ছিল। ঐশীকে স্বাভাবিকই দেখাচ্ছিল। মা-বাবার ঘাতক ঐশীকে আদালতে আনার পর তাকে এক নজর দেখার জন্য সাধারণ জনগণ, বিচারপ্রার্থী, আদালতের কর্মচারী ও আইনজীবীরা ভিড় করেন। অনেকই এই মেয়ের বিচার না করে সরাসরি গুলি করে মারা উচিত বলেও মন্তব্য করে। অনেকেই তার দিকে থুতু ছুড়ে মারে।
পরিবার ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ইংরেজিমাধ্যমের ছাত্রী ঐশী পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায়ই গোপনে মোবাইল ফোনসেট কেনে। আর এ ফোনের খবর অন্তত দুই বছর টের পায়নি তার মা-বাবা। যখন তারা টের পান তখন ঐশী তাদের বলে, বিভিন্ন সময়ের জমানো টাকা দিয়ে সে এই ফোন কিনেছে। এরপর তার ফোন কেড়ে নিয়ে যান বাবা মাহফুজুর রহমান। এরপর বারবার ফোনের জন্য বায়না ধরে ঐশী। একপর্যায় মেয়েকে ফোন কিনে দিতে বাধ্য হন বাবা। নিয়মিত মোবাইল ফোনের মডেল বদল করত ঐশী। নতুন ফোন কিনে না দিলে অনেকবার গ্লাস ভেঙে পেটে ঢুকিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেয় সে।
এক বছর ধরে ঐশী চার-পাঁচজন ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ইয়াবা সেবনের আসরে যেত। এ জন্য মা-বাবাকে চাপ দিয়ে টাকা আদায় করত সে। দুই মাস ধরে এ নিয়ে সমস্যা দেখা দেয় পরিবারে। গত ১০ রমজান থেকে তা চরমে পৌঁছে। ওই দিন মায়ের সঙ্গে মালিবাগে ঈদের কেনাকাটা করতে যায় ঐশী। সেখানে শরীর খারাপ লাগছে বলে বাসায় ফিরে আসে সে। এরপর নকল চাবি দিয়ে মায়ের আলমারির তালা খুলে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে বাইরে চলে যায়। বাসায় ফেরে রাত ১২টার দিকে। এত রাতে বাসায় ফেরার কারণে ওই দিন বাবা মাহফুজুর মেয়েকে শাসন করেন। এরপর কয়েক দিন ঐশীকে তার কক্ষে বন্দি করে রাখেন তিনি। ৩১ জুলাই তাকে কক্ষ থেকে মুক্ত করা হলেও অকারণে বাসার বাইরে যেতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
গত শনিবার, ১৭ আগস্ট ছিল ঐশীর জন্মদিন। বেশির ভাগ জন্মদিন পালন করত রাজবাড়ীর ওর নানা বাড়িতে। গতবারও একটি আইফোন কিনে দেওয়া হয়েছিল। এবার নিজের জন্মদিনের আগে মা-বাবাকে মেরে নিজে আসামি হয়ে ধরা দিল।
গত শনিবার দুপুরে পল্টন থানায় দায়িত্বরত কনস্টেবল এমদাদুল হককে গিয়ে ঐশী বলেন, আমার নাম ঐশী। বাড্ডা থেকে এসেছি। আমি কিছু বলতে চাই। কাকে বলব। ডিউটি অফিসার এসআই ফৌজিয়া খানমের কাছে গিয়ে ঐশী সরাসরি বলেন, আমি মা-বাবাকে হত্যা করেছি।

0 comments:

Post a Comment