দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর সম্পাদক অ্যাডভোকেট
আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে তাকে ঢাকা
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা
শাহরিয়ার খান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জেলকোডের বিধান
অনুযায়ী তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা বিবেচনা করে কারাগারে তাকে প্রথম
শ্রেণীর সুবিধা (ডিভিশন) দেয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে আদিলুর রহমানের গ্রেফতারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেরি হার্প তার মুক্তি দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
এর আগে গত সোমবার হাইকোর্ট নিম্ন আদালতে দেয়া রিমান্ডের আদেশ স্থগিত করে অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমানকে দ্রুত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ডিবি পুলিশ তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে তাদের জিম্মায় রেখে রাতভর নির্যাতন করেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে আইনজীবীরা গতকাল সিএমএম আদালতে আবেদন করেন। আদালতের আদেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করেন। আদালত সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পরপরই তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
এদিকে কোনো অভিযোগ বা মামলা ছাড়াই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহমূলকভাবে আটক করে আদিলুর রহমান খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনাকারী ডিবি পুলিশের
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন, বিধি-বিধান এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুরকারী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে’র বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
তারা বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ে উল্লেখ রয়েছে যে, ৫৪ ধারায় আটক কোনো ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশ রিমান্ড প্রার্থনা করতে পারবে না এবং করলেও কোনো আদালতই তা মঞ্জুর করতে পারবে না। এছাড়া কোনো মামলায়ও একনাগাড়ে ৩ দিনের বেশি রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারবে না কোনো আদালত। নিম্ন আদালতের জন্য উচ্চ আদালতের এ রায় মেনে চলা আবশ্যক। ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে উচ্চ আদালতের উক্ত নির্দেশনা লঙ্ঘন করে অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন।
গত ৫ মে গভীর রাতে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য অভিযান চালায়। এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা মতিঝিলের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও অনুসন্ধান চালায়। অধিকার নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত শনিবার ঈদের পরদিন রাত দশটায় অধিকারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমানকে তার গুলশানের বাসভবনের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহমূলক অপরাধী হেসেবে আটক দেখিয়ে পরদিন আদালতে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনসহ দেশি ও বিদেশি অসংখ্য মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে’র দেয়া ৫ দিনের রিমান্ড আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন আদিলুর রহমানের আইনজীবীরা। হাইকোর্ট ৫ দিনের রিমান্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে এবং সরকারের প্রতি রুল জারি করে কেন রিমান্ডের আদেশ বাতিল করা হবে না তার কারণ জানতে চেয়েছে।
হাইকোর্টের উক্ত আদেশ সোমবারই ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছানো হলেও আদিলুর রহমানকে ডিবি পুলিশ তাদের হেফাজতে রেখে দেয়। রাতভর তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত আইনজীবীরা সিএমএম আদালতে পুনরায় আবেদন করে তাকে কারাগারে প্রেরণের প্রার্থনা জানান। আদালতের নির্দেশে আদিলুর রহমানকে গতকাল দুপুরে সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয়। আদিলুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন, জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, বেলাল হোসেন জসিম প্রমুখ।
এদিকে আদিলুর রহমানের গ্রেফতারে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেরি হার্প তার মুক্তি দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
এর আগে গত সোমবার হাইকোর্ট নিম্ন আদালতে দেয়া রিমান্ডের আদেশ স্থগিত করে অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমানকে দ্রুত কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ডিবি পুলিশ তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে তাদের জিম্মায় রেখে রাতভর নির্যাতন করেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে আইনজীবীরা গতকাল সিএমএম আদালতে আবেদন করেন। আদালতের আদেশে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম তাকে আদালতে হাজির করেন। আদালত সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পরপরই তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।
এদিকে কোনো অভিযোগ বা মামলা ছাড়াই ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহমূলকভাবে আটক করে আদিলুর রহমান খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনাকারী ডিবি পুলিশের
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন, বিধি-বিধান এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ৫ দিন রিমান্ড মঞ্জুরকারী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে’র বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
তারা বলেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ে উল্লেখ রয়েছে যে, ৫৪ ধারায় আটক কোনো ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশ রিমান্ড প্রার্থনা করতে পারবে না এবং করলেও কোনো আদালতই তা মঞ্জুর করতে পারবে না। এছাড়া কোনো মামলায়ও একনাগাড়ে ৩ দিনের বেশি রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারবে না কোনো আদালত। নিম্ন আদালতের জন্য উচ্চ আদালতের এ রায় মেনে চলা আবশ্যক। ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে উচ্চ আদালতের উক্ত নির্দেশনা লঙ্ঘন করে অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খানকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন।
গত ৫ মে গভীর রাতে মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য অভিযান চালায়। এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা মতিঝিলের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও অনুসন্ধান চালায়। অধিকার নিজস্ব উদ্যোগে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত শনিবার ঈদের পরদিন রাত দশটায় অধিকারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমানকে তার গুলশানের বাসভবনের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহমূলক অপরাধী হেসেবে আটক দেখিয়ে পরদিন আদালতে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনসহ দেশি ও বিদেশি অসংখ্য মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে’র দেয়া ৫ দিনের রিমান্ড আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন আদিলুর রহমানের আইনজীবীরা। হাইকোর্ট ৫ দিনের রিমান্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে এবং সরকারের প্রতি রুল জারি করে কেন রিমান্ডের আদেশ বাতিল করা হবে না তার কারণ জানতে চেয়েছে।
হাইকোর্টের উক্ত আদেশ সোমবারই ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছানো হলেও আদিলুর রহমানকে ডিবি পুলিশ তাদের হেফাজতে রেখে দেয়। রাতভর তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। শেষ পর্যন্ত আইনজীবীরা সিএমএম আদালতে পুনরায় আবেদন করে তাকে কারাগারে প্রেরণের প্রার্থনা জানান। আদালতের নির্দেশে আদিলুর রহমানকে গতকাল দুপুরে সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয়। আদিলুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন, জয়নাল আবেদীন মেজবাহ, বেলাল হোসেন জসিম প্রমুখ।
0 comments:
Post a Comment