Searching...

Popular Posts

Wednesday, August 14, 2013

বিপিএল ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে ৯ জন অভিযুক্ত : ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স দলের ভেতরে ষড়যন্ত্র হয়

4:06 AM
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিং সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু)। আকসুর প্রতিবেদনে বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকায় নয়জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা এবং ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল হোটেল রেডিসনে আইসিসি ও বিসিবির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন একথা জানান। নয়জনের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে সরাসরি ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। রিচার্ডসন জানান, বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী কোড অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগ পর্যন্ত এই নয়জনের নাম প্রকাশ করা হবে না। বিসিবির ক্রিকেটার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার আওতায় এ অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে, বিপিএলের ফ্রাঞ্চাইজি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স দলের ম্যাচ পাতানোর ষড়যন্ত্র, ম্যাচ ফিক্সিং করা এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এ সম্পর্কে না জানানো। অভিযোগগুলোর মূল বিষয়ই ছিল ২০১৩ সালের বিপিএলে ঢাকা গ্ল্র্যাডিয়েটর্স দলের ভেতরে ম্যাচ এবং স্পট ফিক্সিংয়ের ষড়যন্ত্র। অভিযোগ-গুলো এরই
মধ্যে অভিযুক্তদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে রিচার্ডসন জানান। অভিযুক্তদের সাতজনের বিরুদ্ধে গুরুতর ফিক্সিং সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য দুজন ষড়যন্ত্রের কথা জেনেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করায় তাদেরও চার্জ করা হয়েছে। তবে নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিরপরাধ হিসেবে দেখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রিচার্ডসন জানান, নয়জনের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সরাসরি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ওপর বিসিবির নীতিমালার অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী পাঁচ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। বাকি দুজন অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন। যাদের বিরুদ্ধে ফিক্সিং সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হচ্ছে। এই সাতজনকে কাল থেকেই ক্রিকেট সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাদের ১৪ দিনের মধ্যে জানাতে হবে তারা কি দোষ স্বীকার করবেন, নাকি পূর্ণ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করবেন। এই শুনানি একটি দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনালে হবে। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরকে বাজিকরদের কালো থাবা থেকে বাঁচাতে আকসুকে তলব করে বিসিবি। ফাইনালের পরদিনই কয়েকটি ম্যাচ এবং ক্রিকেটারসহ কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক বলে প্রতিবেদন জমা দেয় তারা। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পর ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় অধিকতর তদন্তের জন্য আকসুর সঙ্গে চুক্তি করে বিসিবি।
আকসুর প্রতিবেদন দেয়ার সময়সীমা বেশ ক’বার বাড়ানো হয়। নতুন নাম যোগ হওয়ায় বাড়ে তদন্তের ব্যাপ্তিও। তদন্তের জন্য অন্তত ছয়বার বাংলাদেশ সফর করে আকসুর প্রতিনিধি দল। খোদ আইসিসির বোর্ড সভায়ও অধিকতর তদন্তের পরামর্শ দেয়া হয়। বিসিবি তদন্ত অব্যাহত রাখার কথা জানালে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে আকসু। দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। স্বীকারোক্তি দেয়ার পর গত ৪ জুন সব ধরনের ক্রিকেট থেকে আশরাফুলকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে বিসিবি। সেদিনই ম্যাচ পাতানোয় জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চান সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান।

0 comments:

Post a Comment