Searching...

Popular Posts

Thursday, August 1, 2013

মিল্কির হত্যাকারী তারেকসহ ২ জন ক্রসফায়ারে নিহত : ক্রসফায়ারের আগে দল থেকে বহিষ্কার : রিমান্ডে আরও ৬ জন

1:54 AM
ঢাকায় যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক মিল্কির হত্যাকারী হিসেবে ‘চিহ্নিত’ অপর যুবলীগ নেতা এইচ এম জাহিদ সিদ্দিক তারেক গতরাতে র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। সঙ্গে তার এক সহযোগীও নিহত হয়েছে।
গত রাত ১০টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেতে বিমানবন্দর সড়কে ‘ক্রসফায়ারের’ এই ঘটনা ঘটে বলে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক জিয়াউল আহসান জানিয়েছেন। তারেককে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হলেও তিনি রাজধানীর উত্তরায় একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন।
সেখান থেকে রাত ১০টার দিকে তাকে গুলশান থানায় আনার পথে তার সহযোগীরা র্যাবের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেন জিয়াউল আহসান। তার দাবি, দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধের সময় পালাতে গিয়ে নিহত হন তারেকসহ দু’জন। নিহত অন্যজনের নাম শাহ আলম । ‘বন্দুকযুদ্ধে’ র্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জিয়াউল আহসান জানিয়েছেন।
মিল্কির হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় এ হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটছে। এদিকে আটককৃত যুবলীগের ছয় নেতাকর্মীকে গতকাল ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সূত্র জানিয়েছে, টেন্ডার বিরোধ, চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা ও দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দিন খান মিল্কিকে হত্যা করা হয়েছে। র্যাবের গোয়েন্দারা হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে।
এর আগে মিল্কি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সিদ্দিকী তারেক এবং ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব ও পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মহানগর যুবলীগের দক্ষিণের সভাপতি হওয়ার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে যুবলীগ দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচএম জাহিদ সিদ্দিকী তারেকের সঙ্গে তার ছোট বেলার বন্ধু যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন খান মিল্কির দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তাই মিল্কিকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে তারেক এবং তার সহযোগিরা সুযোগ খুঁজছিল। সোমবার গভীর রাতে গুলশান ১ নম্বরে অবস্থিত ‘শপার্স ওয়ার্ল্ড শপিং মলের’ সামনে পেয়ে পরিকল্পিত ভাবে ফিল্মি স্টাইলে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে হত্যা করেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুবলীগের ক্যাডররা। এ ঘটনায় র্যাবের কাছে আটককৃতরাসহ ১১ জনকে প্রধান আসামি করে নিহতের ভাই মেজর রাশিদুল হক খান গুলশান থানায় একটি মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এটিএম হাবীবুর রহমান জানান, তারেক ও তার গ্রুপের সঙ্গে নিহত যুবলীগ নেতা মিল্কির টেন্ডার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এ দ্বন্দ্বের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত তারেক স্বীকার করেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কি কারণ থাকতে পারে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি র্যাবও বিষয়টি তদন্ত করছে। এ ঘটনায় কার মদত রয়েছে তাদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তাছাড়া নিহতের সঙ্গে আর কারও পূর্ব শত্রুতা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মিল্কির হাত ধরেই তারেকের যুবলীগের রাজনীতিতে আসেন। তারা দুজন বাল্যবন্ধু ছিলেন। তারা সব সময় একসঙ্গেই থাকতেন। এক প্লেটে ভাতও খেতেন। প্রায় সাড়ে ৩ বছর আগে একটি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে দু’জনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকে তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে ডিসিসির একটি টেন্ডার নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং দুজনকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
নিহতের বড় ভাই কায়সার মিল্কি জানান, রাত ১০টা পর্যন্ত মতিঝিল এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে মিল্কি মোহাম্মদপুরের বাসায় ফেরেন। তাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে গাড়ির ড্রাইভার চলে যায়। এরপর খাওয়া সেরে মিল্কি বাসায়ই অবস্থান করছিলেন। হঠাত্ করে তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। তখন পূর্বপরিচিত সাগর তার নিজস্ব গাড়িতে করে মিল্কিকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মিল্কি বাসায় না ফিরলে পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে সাগরের মাধ্যমে জানতে পারে মিল্কি নিহত হয়েছে। কায়সার জানান, মিল্কিকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
আমাদের কোর্ট রিপোর্টার জানান, মিল্কি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃতদের গতকাল সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম রেজাউল করিমের আদালতে গুলশান থানার এসআই সাব্বির রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তবে তারেককে রিমান্ডে নেয়া হয়নি।
গত মঙ্গলবার সকালে উত্তরা একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তারেককে গ্রেফতার করে র্যাব। গতকাল র্যাব প্রহরায় তিনি চিকিত্সাধীন ছিলেন। চিকিত্সা শেষে সুস্থতা সাপেক্ষে তার রিমান্ড চাওয়া হবে বলে তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই সাব্বির রহমান আদালতকে জানিয়েছিলেন। শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আদালতে অ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন আহমেদ ও এনামুল হক রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তারা আসামিদের নিরাপরাধ বলে দাবি করেন।
উল্লেখ, গত সোমবার গভীর রাতে মিল্কি ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করার জন্য মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে প্রাইভেট কারে গুলশান ১ নম্বরে অবস্থিত ‘শপার্স ওয়ার্ল্ড শপিং মল’ এর সামনে এসে নামেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে শপিংমলের ভেতরে প্রবেশের পূর্ব মুহূর্তে সাদা পাঞ্জাবি পরা অজ্ঞাত কয়েকজন সন্ত্রাসী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য ঘটনাস্থলের ‘শপার্স ওয়ার্ল্ড শপিংমল’য়ের ক্লোজ সার্কিট কামেরায় ধরা পড়ে। ওই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাটি র্যাব জব্ধ করে। পরে বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভশনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

0 comments:

Post a Comment