Searching...

Popular Posts

Tuesday, August 6, 2013

শোকাবহ আগস্ট

5:34 AM
১৫ আগস্ট ১৯৭৫। রেডিওতে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর প্রচারিত হচ্ছিল। ভোরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও কোন প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়নি। নেয়া হয়নি সামান্যতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল সাড়ে সাতটায় আর্মি হেডকোয়ার্টারে মেজর ডালিম সশস্ত্র অবস্থায় জিপ নিয়ে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে রেডিও স্টেশনে ধরে নিয়ে যান। ডালিম যখন সশস্ত্র অবস্থায় সেনাপ্রধানের রুমে প্রবেশ করেন, তখন তাকে কেউ বাধা দেয়নি। সেই কক্ষে ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ, জেনারেল জিয়া, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল নাসিম। তারা সবাই জাতির জনককে হত্যার কথা জেনেছেন; কিন্তু সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ়। রেডিও থেকে ঘোষণা হচ্ছে এটি একটি সামরিক অভ্যুত্থান; কিন্তু সে খবর জানেন না খোদ সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধানকে নিয়ে যাবার সময় কেউ মেজর ডালিমকে বাধা দেয়নি।

স্টেনগান তাক করে মেজর ডালিম সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে রেডিও স্টেশনে যেতে বলেন এবং কোনরকম বাধা ছাড়াই সেনাপ্রধানকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে যান। তবে রেডিও স্টেশনে যাবার আগে সেনাপ্রধানকে নিয়ে মেজর ডালিম ৪৬ বেঙ্গল লাইনসে যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মেজর রশীদ। পরে বেঙ্গল লাইনসে তিন বাহিনী প্রধান আলোচনায় মিলিত হন। তখন সেনা প্রধানের হাতে দুইটি পথ খোলা ছিল। ১. ট্রুপস নিয়ে বিদ্রোহী দুইটি ইউনিটের উপর আঘাত হানা ২. পরিবর্তিত পরিস্থিতি মেনে নেয়া। আমাদের সেনাপ্রধান সেদিন পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মেনে নিয়েছিলেন।

এক পর্যায়ে হত্যাকারীদের কথামতো শাহবাগে রেডিও অফিসে যান তিন বাহিনী প্রধান। তারা এক এক করে রেডিওতে রশিদ-ফারুক মনোনীত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। মোশতাকের বক্তব্যের খসড়া বানিয়েছিলেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর। রেডিও বাংলাদেশ থেকে তা বারবার প্রচারিত হতে থাকে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেনাপ্রধানদের আনুগত্য প্রকাশ ছিল একটি টার্নিং পয়েন্ট। যদি সেনাপ্রধান হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন তাহলে ইতিহাস ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে পারতো; কিন্তু তা হয়নি, হত্যাকারীরা বিনা বাধায় তিন বাহিনী প্রধানের আনুগত্য অর্জন করে।

0 comments:

Post a Comment