ইসলামপুরে যমুনার তাণ্ডবলীলা : জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কুলকান্দি হার্ডপয়েন্টসহ যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের তাণ্ডবলীলা চলছে। ফলে সরকারের ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।
স্থানীয়রা জানান, যমুনার বাম তীর কুলকান্দি এলাকায় গত দু’দিনে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুলকান্দি হার্ডপয়েন্টসহ কুলকান্দি এলাকার শতাধিক বসতভিটা যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষার্থে তত্কালীন সরকার জাপান ও ফ্রান্সের যৌথ কারিগরি সহায়তায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুলকান্দি রিভেটমেন্ট ট্রেস্ট স্ট্রাকচার হার্ড পয়েন্ট নির্মাণ করে। এতে দীর্ঘদিন কুলকান্দি এলাকায় যমুনার ভাঙন বন্ধ থাকলেও গত বছর বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ওই এলাকায় যমুনার বাম তীরে ভয়াবহ ভাঙনে হার্ডপয়েন্টের ১০০ মিটার যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। এরপর শুষ্ক মৌসুমে সরকারের যমুনা বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে হার্ডপয়েন্টের ভাঙন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হার্ডপয়েন্টটিতে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কুলকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাগুন মিয়ার বাজার, কুলকান্দি এলাকার অসংখ্য মূল্যবান স্থাপনাসহ দুই হাজার বসতভিটা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঠ।
এলাকাবাসী জানায়, যমুনার ভাঙন রোধে যেখানে ভাঙন, সেখানেই প্রতিরোধ—এ কর্মসূচির ধারাবাহিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মহাজোট সরকারের ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।
হিজলায় অতিবর্ষণে বটগাছ উপড়ে ৩ মন্দির বিধ্বস্ত : বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের উত্তরপাড়ার বটবৃক্ষ উপড়ে পড়ে তিনটি মন্দির বিধ্বস্ত হয়েছে। অতিবর্ষণে মন্দির সংলগ্ন বিশাল ওই বটগাছটির গোড়ায় পানি জমে থাকায় শিকড় আর গাছটিকে ধরে রাখতে পারেনি। সোমবার গাছটি উপড়ে পড়ে গেলে পার্শ্ববর্তী হরি মন্দির, কালী মন্দির ও লোকনাথ মন্দির বিধ্বস্ত হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। পূজা কমিটির সভাপতি ডা. অশোক কুমার চ্যাটার্জী জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা-অর্চণাসহ সব ধর্মীয় কার্যক্রম এ তিনটি মন্দিরকে ঘিরেই চলে আসছে। মন্দির মেরামত করা ছাড়া ওই এলাকায় পূজা-অর্চণা সম্ভব হচ্ছে না।
0 comments:
Post a Comment