Searching...

Popular Posts

Saturday, August 3, 2013

ঈদের পর আবার শক্তি দেখাতে চায় জামায়াত

12:12 AM
রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ঈদের পর আবার রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের তিনজন দায়িত্বশীল নেতা ও দলের নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করে এ কথা জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ঈদের পর ৪৮ ঘণ্টার হরতালের পর নিবন্ধন বাতিলের প্রতিবাদ, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দলের নেতাদের মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি দেবে জামায়াত। কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে আবার শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
একই সঙ্গে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার বিষয়ে বিএনপির দৃশ্যমান ভূমিকা আশা করে জামায়াত। এ নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে গতকাল শুক্রবার বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে বিএনপির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। মূলত এর পরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল আইনি প্রক্রিয়া বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হওয়া সংগত নয়।
বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ঈদের পরপরই জামায়াত লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে আবার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালালে শরিক দল হিসেবে তার দায়ভার বিএনপির ওপরও পড়বে। তাই গতকাল বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা জামায়াতের বর্তমান শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নমনীয় কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি নিয়ে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিএনপিরও মাঠে নামার চিন্তা আছে। তার আগে মাঠে শক্তি প্রদর্শন ঠিক হবে না।
জামায়াতের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, হাইকোর্টের ঘোষিত রায়কে তাঁরা রাজনৈতিক ও আইনগত—দুভাবে পর্যালোচনা করছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এ রায় তাঁদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তা দলের জন্য আরেকটি বড় আঘাত। এর ফলে দল হিসেবে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করবে। এর মধ্য দিয়ে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে জামায়াতকে চাপে রাখার পাশাপাশি সামনের দিনগুলোতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতময় করার ইঙ্গিত রয়েছে।
অন্যদিকে আইনি দিক থেকে হাইকোর্টের রায়কে ‘ভুল’ ও ‘অপরিপক্ব’ বলে দাবি করছে জামায়াত। তাদের যুক্তি হচ্ছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) শর্ত মেনে নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী নিবন্ধন সনদ পেয়েছে। এখন স্থায়ী নিবন্ধন পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং তা নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। জামায়াত যে কমিশনের শর্ত মানতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তা-ও নয়। এ অবস্থায় কোনো পক্ষের রিট আবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিবন্ধন বাতিল হতে পারে না। তাই রায় ঘোষণার পরপরই দলের পক্ষ থেকে রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করা হয়েছে। তারা আশা করছে, আপিল বিভাগের রায়ে প্রতিকার পাবে।
ঘোষিত রায়কে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দাবি করেন, যারা দেশের কল্যাণ ও গণতন্ত্র অব্যাহত থাকুক চায় না, তারাই এ রায়ে লাভবান হবে। এ রায়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।
অবশ্য জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ও দলটির মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম-এর সম্পাদক আবুল আসাদ দাবি করেন, সরকারের শেষ সময়ে আদালতের এ ধরনের রায় বা সরকারের নির্বাহী কোনো আদেশে জামায়াতের খুব বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। এটা থেকে জামায়াত জনগণের সহানুভূতি পাবে।
জামায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে নতুন নামে দল গঠন করার ব্যাপারে দীর্ঘদিন থেকে দলটির ভেতরে-বাইরে নানামুখী আলোচনা ছিল। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট নিবন্ধন বাতিলের রায় ঘোষণা দিলে বিষয়টি আবারও সামনে আসে। তবে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপিল হয়েছে, আমরা আইনিভাবেই জয়ী হব। নতুন কিছুর চিন্তার প্রয়োজন হবে না।

0 comments:

Post a Comment