নড়িয়া উপজেলার বুননা, চরজুজিরা গ্রামে ২৪ ঘন্টায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি, ফসলী জমি এমনকি সরকারি মূল সড়কের অংশ পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তায়। নদী ভাঙ্গনের শিকার এসব মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট। অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
গত শনিবার সকালে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের চরজুজিরা গ্রামে গিয়ে দেখা গেল নদীর পাড়ে উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড়। আলী আহাম্মদ মাঝি (৭০) নামে এক বৃদ্ধ বলেন, আমাদের মাঝে ঈদের আনন্দ নেই। গত বুধবার সকালে তিনি বেড়াতে গিয়েছিলেন পাশের গ্রামে আত্মীয় বাড়িতে। ১ ঘন্টা পর ফিরে এসে নিজের ভিটেবাড়ির অস্তিত্ব খুঁজে পাননি তিনি। প্রমত্তা পদ্মা কেড়ে নিয়েছে তার জীবনের সব অর্জন। সব হারিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তায়। একই গ্রামের অমলা বিবি ও বানু বেগমও হারিয়েছেন সবকিছু। চরজুজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় আশ্রয় মিললেও খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন তারা। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে বিলীন হয়ে গেছে ৬১টি পরিবারের বসতবাড়ি।
এদিকে উপজেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এবং স্থানীয় জনগণ কেদারপুর গ্রাম রক্ষার জন্য নদী তীরে বালু ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ভাঙ্গনকবলিত ৮১ পরিবারের মাঝে শনিবার নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি নুসার উদ্যোগে পরিবার প্রতি নগদ ২ হাজার টাকা, শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী। সরকারি ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা ৩৫৫ পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত এক মাসে পদ্মার ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা, সুরেশ্বর, সাইবেরচর, সাধুর বাজার, কলমিরচর এলাকার ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ও দেড় হাজার একর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন আতংকে বসতবাড়ির গাছপালা কেটে ঘর ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন নদী তীরের মানুষ। ভাঙ্গন হুমকিতে পড়েছে মুলফত্গঞ্জ বাজার, ওয়াপদা বাজারসহ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। পদ্মার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভিটে বাড়ি হারিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে ৫ শতাধিক পরিবার। দীর্ঘদিনেও তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি কোন সাহায্য-সহযোগিতা। আয়-রোজগারের পথ খুঁজে না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
কেদারপুরের মনছুর ছৈয়ালের বাগান বাড়ির আশ্রয় কেন্দ্রের আছমা বেগম (৩৮) ও লতিফ লস্করের বাগান বাড়ির আশ্রয় কেন্দ্রের আয়েশা বেগম (৫৫) বলেন, পদ্মায় ভাঙ্গনের পর আমরা স্থানীয়দের সহায়তায় এখানে আশ্রয় নিয়েছি। সামান্য খেয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় শিশুরা জ্বর, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস বলেন, নদী ভাঙ্গনের শিকার ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভাঙ্গনকবলিত মানুষের আশ্রয়ের জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
0 comments:
Post a Comment