Searching...

Popular Posts

Tuesday, August 6, 2013

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের আগে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব নয়

5:04 AM
সব প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ভাবে এগোলেও ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের আগে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। এমনটাই জানিয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতুর দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে কার্যাদেশ দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কাজ এগোলেও ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের আগে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই মূল কাজ শুরু করা।

তবে এবিষয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল রাতে বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে এ কথা তিনি কখনোই বলেননি। টেকনিক্যাল কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তবে অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছেন।

আর অন্যদিকে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কাজ করতে। এখানে কিছু বিষয় আছে যা আমাদের হাতে নেই। তাই কবে সেতুর মূল কাজ শুরু করা যাবে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণে মূল সেতুর জন্য এ পর্যন্ত মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার ডকুমেন্ট কিনেছে। অন্যদিকে, পদ্মা সেতু প্রকল্প তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১১টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। আবেদনগুলো পর্যালোচনা করার পর কোনো ত্রুটি আছে কি-না তা যাচাই করা হবে। পরে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রথমে কারিগরি, পরে আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হবে।

তিনি জানান, এর পর যাচাই-বাছাই সম্পন্ন শেষে দুটি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে। যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে তাদের মধ্যে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পদ্মা প্রকল্পের মূল সেতুর জন্য, অপরটি তদারকি করতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, আগের ডিজাইনেই সেতু তৈরি করা হবে।

উল্লেখ্য নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের পর মূল সেতুর কাজ শুরু করতে গত ২৬ জুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে সরকার। সূত্র জানায়, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের মধ্য থেকে পাঁচটির শর্ট লিস্ট করা হবে। এরপর তাদের কাছ থেকে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে আবেদনের শেষ সময় ছিল গত ৩১ জুলাই। পক্ষান্তরে, মূল সেতুর জন্য এ পর্যন্ত ৩টি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার ডকুমেন্ট কিনেছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দরপত্র খোলার শেষ সময়। এর পর একই প্রক্রিয়ায় মূল সেতুর জন্য আগ্রহী প্রাক-যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব চাওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে কার্যাদেশ পাওয়া পর্যন্ত যেসব স্তর রয়েছে, তা সম্পন্ন হতে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগবে। মূল্যায়ন কমিটি যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করার পর ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। এর পর অর্থ পরিশোধের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই কার্যাদেশ দেওয়া হবে। তাই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ২০১৪ সালের আগে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। একই মত ব্যক্ত করে মূল্যায়ন কমিটির আরেক সদস্য বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আইনুন নিশাত বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া হয়্ত সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু মূল সেতুর কাজ শুরু হতে তার পরেও আরও ৬ মাস সময় লাগবে। তিনি মনে করেন, মূল সেতুর আগে তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিতে হবে। তাহলে কাজ দ্রুত এগোবে।

0 comments:

Post a Comment