শিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, “জামায়াত-শিবিরের বর্তমান অবস্থায় ১২ ও ১৩ আগস্টের হরতাল সফল করাই হচ্ছে আন্দোলনের প্রাথমিক স্তর। একারণেই শিবিরের সাথী ও সদস্যদের ঈদের ছুটির অনুমতি দেয়া হয়নি।”
সংগঠনের একটি সূত্র জানায়, বিগত আন্দোলনে রাজধানীতে তেমন কোনো প্রভাব দেখাতে পারেনি জামায়াত-শিবির। এবারের আন্দোলনে রাজধানীতে টার্গেট করে পূর্ণশক্তি নিয়ে মাঠে থাকবে সংগঠনটি।
ওই সূত্র আরো জানায়, জামায়াতের নিবন্ধনকে অন্যায়ভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিতের আপিল করা হয় কিন্তু কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোমবার হটাৎ করেই কার্যতালিকায় নিয়ে আসা হয়। এমনকি জামায়াতের আইনজীবীরা শুনানি না করার আবেদন করলেও বিচারক তার একক সিদ্ধান্তে আবেদন খারিজ করে দেয়। এতে করে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তাতে জামায়াত-শিবিরের জন্য এখন আর আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
আগামী দিনের আন্দোলনকে সফল করার জন্যই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে শতশত নেতাকর্মী জামিনে বের হয়েছেন। কারাসূত্রে জানা যায়, আদালতের মাধ্যমে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনও পাচ্ছেন আটককৃত নেতাকর্মীরা। জুলাই মাসের শুরু থেকে শেষদিন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে পাঁচ জন করে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “সরকার গায়ের জোরে নিবন্ধন বাতিল করেছে। এটা অগণতান্ত্রিক ও সংবিধান পরিপন্থী। আবারো প্রমাণ হয়েছে এ সরকার গণতন্ত্র ও সংবিধানে বিশ্বাস করে না। আগামীতে কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দেশে যেকোনো সংঘাত বা অচলাবস্থার জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।”
জামায়াতের কর্মপরিষদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, ঈদের পর আন্দোলনকে সফল করতে কেন্দ্রীয় নির্দেশে নেতাকর্মীরা কেউ বাড়ি যাবেন না। গতানুগতিক ধারার আন্দোলনের মাধ্যমে জামায়াতের অবস্থান সরকারকে জানান দেয়া হবে।
0 comments:
Post a Comment