Searching...

Popular Posts

Tuesday, August 13, 2013

চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন : ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে পাকিস্তানি সেনা নিহত

4:33 AM
ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের গুলিতে রাওয়ালকোটের বাত্তাল সেক্টরে এক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। গত রাতের প্রথম প্রহরের দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান।
এছাড়া, ভারতীয় সেনাদের ছোড়া মর্টারের গোলা ডোঙ্গা গাম্ভীর এলাকার একটি বাড়িতে বিস্ফোরিত হলে এক তরুণ নিহত ও তার বোন মারাত্মক আহত হয়।
ভারতীয় বাহিনীর গোলাগুলির জবাবে পাকিস্তানি রেঞ্জার্স সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায় এবং রাত ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল।
এর আগে, রোববার দিনের বেলায়ও ভারতের সেনারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সীমান্তে গুলি চালায় বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। তবে ওই গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পাকিস্তানি সেনা সূত্র জানিয়েছে, ভারতের সেনারা গতকাল বিকেলে নাকিয়াল সেক্টরের পাক রেঞ্জার্সদের একটি চৌকি লক্ষ্য করে গোলা বর্ষণ করে। এছাড়া, সকালের দিকে সিয়ালকোট সেক্টরেও একই ধরনের গোলাগুলি চালায় ভারতের সেনারা। পাকিস্তানের রেঞ্জার্স সদস্যরাও তার জবাব দেয়।
গত ৬ জুলাই ভারত অভিযোগ করে, জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তের পুঞ্চ জেলায় পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় তাদের পাঁচ সেনা নিহত হয়েছে। এরপর থেকে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতের সেনারা। তবে, পাকিস্তান ওই হামলার কথা অস্বীকার করেছে।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ফের গোলাগুলি হয়েছে শনিবার। পাকিস্তান সীমান্তরক্ষী রেঞ্জার সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফ বিনা উস্কানিতে গুলি ছোড়া শুরু করলে রেঞ্জার সদস্যরা পাল্টা জবাব দেয়।
পাকিস্তান সামরিক সূত্রে বলা হয়েছে, গোলাগুলি কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এবারের গুলির ঘটনা ঘটে পাকিস্তানের নাকিয়াল সেক্টরে। এ ঘটনায় অবশ্য হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ভারতকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ভারতীয় ৫ সৈন্য নিহতের ঘটনার দায়দায়িত্ব পাকিস্তানকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি পাক-ভারত সীমান্তে ঘন ঘন গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এর আগে সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট অতর্কিত হামলায় ভারতীয় ৫ সৈন্য নিহত হয়। এ আক্রমণের জন্য ভারত পাকিস্তান আর্মিকে দায়ী করেছে। কিন্তু পাকিস্তান আর্মি এর দায়দায়িত্ব অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তান যে কোনো মূল্যে দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এদিকে, ৬ আগস্টের ঘটনায় ভারতের মনমোহন সরকার তোপের মুখে পড়েছে। গত বুধবার ভারতের স্বল্পকালীন পার্লামেন্ট সেশনে এর প্রভাব পড়ে তীব্রভাবে। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল গত দু’দিনের পার্লামেন্ট সেশন অকার্যকর করে ফেলে।
গত জানুয়ারিতে সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে দু’দেশের মধ্যকার প্রস্তাবিত আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গত নির্বাচনে নওয়াজ শরীফের দল আবার ক্ষমতায় আসার পর সে আলোচনার পথ যখন সুগম হয়ে উঠেছে, তখন ঘন ঘন সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
এদিকে, ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে সম্পর্ক উন্নয়নের। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের আগে ওই দু’দেশের উন্নয়ন দেখতে চায়। ফলে বিরোধী দলের চাপ সত্ত্বেও মনমোহন সরকার আগ্রাসী মনোভাব পোষণ করতে পারছে না। আর বিরোধী দল আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

0 comments:

Post a Comment