এদিকে শেরপুরের শ্রীবরদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে তিন বখাটেকে আটক করা হয়েছে। অপর ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আরেক কিশোরীকে আটকের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই বখাটেকে।
বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
সেনবাগে মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা : নোয়াখালীর সেনবাগে এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে জখম করেছে সুমন, মাসুদ ও সোহেল নামে তিনি বখাটে। শনিবার রাতে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের সায়েস্তানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওই ছাত্রীকে সেনবাগ ও নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিত্সা শেষে গতকাল সকালে ঢাকায় আনা হয়েছে। পুলিশ ওই সুমনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
এলাকাবাসী জানায়, কাবিলপুর গ্রামের ও স্থানীয় মির আহমেদপুর সিনিয়র মাদরাসার (আলিম) উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্রী একই ইউনিয়নের সায়েস্তানগর গ্রামে তার নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে আসছে।
শনিবার বিকালে ওই ছাত্রীর মামা মো. সুলাইমান তার মামিকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। এ সুযোগে শনিবার রাতে সুমন, মাসুদ ও সোহেল দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতা চিত্কার করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
এ ব্যাপারে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ ঘটনায় সুমন নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শ্রীবরদীতে কিশোরী ধর্ষণ, বখাটেসহ তিনজন আটক : শেরপুরের শ্রীবরদীতে ১৪ বছর বয়সের কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে মাজহারুল ইসলাম নামের এক বখাটেসহ তিনজন আটক হয়েছে। গতকাল অভিযান চালিয়ে শেরপুর বাস টার্মিনাল থেকে তাকে আটক কোর্টে সোপর্দ করেছে পুলিশ। আটক বখাটে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার চরমসলন্দ গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। অন্যরা হলো শ্রীবরদী উপজেলা ভারারচর বলিদাপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রফিক ও শরাফত আলীর ছেলে হামিদুর রহমান।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা একই গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আলী বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভিকটিমের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ভারারচর বলিদাপাড়া গ্রামে মাজহারুল ইসলামের শ্বশুরবাড়ি। তার শ্বশুরবাড়ির প্রতিবেশী সূত্রে আব্বাস আলীর মেয়ে তার শালিকা। সেই সূত্র ধরে মাজহারুল ইসলাম ওই বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন।
ভিকটিমের মা জানান, ঈদের দিন তার মেয়েকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে স্থানীয় ঝগড়ারচর বাজারে নিয়ে যায় মাজহারুল। পরে জোর করে সিএনজি অটোরিকশায় করে ময়মনসিংহ শহরে নিয়ে যায়। সেখানে তার খালার বাসায় রেখে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভিকটিমের চিত্কারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে ভিকটিমের বাবা আব্বাস আলী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের পর অভিযান চালিয়ে অপকর্মের প্রধান হোতাসহ তাদের আটক করে কোর্টে সোপর্দ করেছে। ঘটনাটির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে শাস্তির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
আড়াইহাজারে কিশোরী অপহরণ, গ্রেফতার ২ : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সুমি নামের এক কিশোরী অপহরণের শিকার হয়েছে। আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের ছনপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ৫ আগস্ট ঘটলেও গতকাল সুমির বাবা আ. হাই চৌধুরী আড়াইহাজার থানায় একটি মামলা করেছেন।
আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহেরুল ইসলাম জানান, পাচরুখী খালপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে মুন্না ওরফে হিমন পাশের ছনপাড়া গ্রামের হাই চৌধুরৗর মেয়ে সুমিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। সুমি সাড়া দেয়নি। এতে হিমন ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগীদের নিয়ে ৫ আগস্ট বাড়ির সামনে থেকে জোরপূর্বক সুমিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গতকাল থানায় মামলা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি আখতার মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় মুন্না ও বাচ্চু নামের ২ জনকে আটক করা হয়েছে। মেয়েটি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
0 comments:
Post a Comment