Searching...

Popular Posts

Monday, August 5, 2013

হালিম থেকে হালিমা হবার কাহিনী!

3:10 AM
খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি নাছিরপুর গ্রামের ছহিলদ্দীন মিস্ত্রির ছেলে হালিম এখন হালিমা। সতের বছর বয়সে শরীরের কমনূয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে সুসুম্পষ্ঠ হয়ে উঠেছে রমনীয় অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো। ভরাট বুক আর নিতম্বের অধিকারী হালিম এখন পূর্ণ যুবতি। যৌবনের এই পরিস্ফুটনই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। নারীর স্বাভাবিকতা তার অবচেতন মনে জাগলেও তা পূর্ণতা পায়নি। হালিমের হালিমা হওয়ার কাহিনী যেমন চাঞ্চল্যকর তেমনি দুঃখের পরতে পরতে আঁকা।



আজ থেকে ২০ বছর পূর্বে কপিলমুনি মর্ডান বেকারীতে থাকা কালিন তার শরীরে ঘটতে থাকে বিভিন্ন পরিবর্তন। দিন দিন বুকের আকার যেমন বাড়তে থাকে তেমনই মুখের কমনীয়তাও বৃদ্ধি পায় সমবয়সী মেয়েদের মত। সতীর্থদের টিটকারির মুখে তাকে এক সময় ছাড়তে হয় কপিলমুনি। শুরু হয় যাযাবর জীবন। বাড়তে থাকে মানষিক অশান্তি। বাবা কাঠ মিস্ত্রি ছহিলদ্দীন ঐসময় হালিমের ভবিষ্যৎ চিন্তায় উৎকষ্ঠিত হয়ে পড়েন।


চিকিৎসার জন্য হালিমকে ভর্তি করেন বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ডাক্তাররা তার শরীরিক পরিবর্তনকে হরমোন জনিত সমস্যা বলে চিহিৃত করে শুরু করেন চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পুরুষাঙ্গ কেটে বাদ দেয়া হয়। হালিমের ভাষ্য মতে তাকে বরিশাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে দেবার পর তার মা বাবা আর তার কোন খোঁজ নেয়নি। ফলে এক সময় সে স্রোতের শেওলার মত ভাসতে ভাসতে গিয়ে মেশে বাগেরহাট হিজড়াদের দলে। সে জানায় কাজ দেবার নাম করে কিছু পুরুষ তাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে গিয়ে যৌন বাসনা চরিতার্থ করতে চায়।


কিন্তু হালিমার শরীর নারিত্ব প্রাপ্তিতে পূর্ণতা পায়নি, ফলে পরিপূর্ণ নারী হিসাবে সে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেনি। পুরুষাঙ্গ কেটে তাকে নারীতে পরিনত করার জন্য সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সে ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে হালিমা। আর এ কারনে এটি তার পূর্ণ নারী হবার শারীরিক যোগ্যতা বাঁধা প্রদান করছে। ফলে বিভিন্ন পুরুষের উষ্ণ সান্নিধ্য পেলেও কারো ঘরনী হওয়া তার কপালে জোটেনি। পুরুষরা তার সান্নিধ্যে যৌন বাসনা মিটিয়েছে বিকৃতভাবে। ভালবাসার প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে অর্থকড়ি। যন্ত্রনার ভার সইতে না পেরে সে সিগারেটের আগুনে নিজের হাত পুড়িয়ে।


পুরুষ সঙ্গ তাকে আনন্দ দানের পরিবর্তে বাড়িয়েছে দুঃখ ও যন্ত্রনা। তাইতো হালিমার এখন ভালবাসা শব্দের প্রতি ঘেন্না ধরে গেছে। মানষিক যন্ত্রনায় যখন সে পুড়ছিল ভাগ্যচক্রে সে বাগেরহাট হিজরা দলের সন্ধান পায়। এবং তাদের দলে গিয়ে মেশে। সেজে গুজে দলবদ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়ায়। মানুষের নিকট থেকে প্রয়োজন মত অর্থ চেয়ে নেয়। কোন নব জাতকের সন্ধান পেলে সেখানে হাজির হয়। ঢোল বাদ্য বাজিয়ে তিল তালি দিয়ে নবজাতক টিকে কোলে নিয়ে নৃত্য করে। সেখান থেকে বড় রকমের উপঢৌকন আদায় করে। এমনি করে সুখে দুঃখে দিন পার করছে হালিমা। জীবনের পড়ন্ত বেলায় হিজড়াদের বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। তাই এদের জন্য নুন্যতম একটা আশ্রয়স্থল নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে হালিমার আকুল আবেদন, কপোতাক্ষের চর ভরাট বিশাল জায়গা থেকে হালিমাদের জন্য মাথা গোজার একটা ঠাইয়ের ব্যবস্থা যেন হয়। যেখানে জীবনের শেষ বেলায় আতœীয় পরিজনহীন জীবনের সমাপ্তি ঘটবে।

0 comments:

Post a Comment