যেসব ইউনিয়নে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর, মনাকষা, ছত্রাজিতপুর, ঘোড়াপাখিয়া ও বিনোদপুর ইউনিয়নের আংশিক। ওইসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জানা গেছে, পদ্মা নদীর ভয়াবহ বন্যায় এলাকার মানুষের বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জ দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ সেমি. পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি হতে থাকলে আজ পদ্মা নদীর পানি বিদপসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের বিশুদ্ধ পানির কিছুটা অসুবিধা হয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুরও খাদ্য সঙ্কট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আহমেদ নজমুল কবির মুক্তা জানান, পদ্মা নদীর বন্যায় তার ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক জানান, বন্যায় তার ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির আউশ ধানসহ অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে। মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির আউশ ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
উজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকারিয়া জানান, বন্যায় তার ইউনিয়নের প্রায় ১০০ হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তফা জানান, তার ইউনিয়নের ১৭০ হেক্টর জমির আউশ ধান বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে এবং ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আকতারুল ইসলাম জানান, পদ্মা ও পাগলা নদীর বন্যায় তার ইউনিয়নে এ পর্যন্ত ১৬২ একর জমির ধানসহ অন্যান্য শাকসবজি নষ্ট হয়েছে।
এ ব্যাপারে গতকাল শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পদ্মা ও পাগলা নদীর বন্যায় ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে বন্যার পানির উন্নতি হলে ক্ষতির পরিমাণ কমতে পারে।
অপরদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পদ্মা ও পাগলা নদীর বন্যায় ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়ার খবর শুনেছেন। কিন্তু ওইসব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির তালিকা বা পানিবন্দি হওয়া পরিবারের সংখ্যা এ দফতরে জমা দেননি। এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফরহাদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পদ্মা ও পাগলা নদীর বন্যা এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। বন্যায় আক্রান্ত ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যানদের জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ফসলের তালিকা প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
0 comments:
Post a Comment