পদ্মার স্রোত ও ঢেউ প্রবল আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পদ্মার পাড়ের পাকুড়িয়া ও গড়গড়ি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ১৫০টি পরিবারের মানুষ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন ভাঙছে পদ্মার পাড়। ভাঙন কবলিত গড়গড়ি ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর, চকরাজাপুর, খায়েরহাট, মুর্শিদপুর, নারায়নপুর, মিস্ত্রিপাড়া, জোতাশি, লক্ষ্মীনগর। পাকুড়িয়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রাম, পানিকামড়া, আলাইপুর, গঙ্গারামপুরসহ বসবাসরত পরিবারের মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে আতঙ্কে। মাথা গোজার ঠাঁয়টুকু হারিয়ে গেলে তারা কোথায় গিয়ে উঠবে ওই চিন্তায়ই দিন কাটছে পাড়ের প্রতিটি মানুষের। গত কয়েকদিন ধরে পদ্মার ভাঙন অব্যাহত থাকলেও রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড তথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পদ্মার ধারে বসবাসরত একরামুল, মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর, নুরুল, মাজদারসহ পাড়ের মানুষের অভিযোগ বাঁধ নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন সময়ে দাবি উঠলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। গত কয়েক বছরে ওইসব এলাকায় হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান তারা।
সরজমিনে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের পাহাড়ি ঢলে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মার তীর থেকে মাত্র ৩০-৩২ হাত দূরের গড়গড়ি ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর বেসরকারি (রেজি.) প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চৌমাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র সরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনটি মসজিদ ও তিনটি বিড়িআর ক্যাম্প নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এছাড়া পাকুড়িয়া ইউপির চরচৌমাদিয়া গ্রামটি সম্পূর্ণই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ গ্রামের ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ হাজারের মতো। আছে মাত্র ৫০০। বাকিরা কুষ্টিয়া ও অন্যস্থানে চলে গেছে। ১৯৭৭-৭৮ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বাঁধ নির্মাণের পর আর কখনোই কোনো মেরামত করা হয়নি। উজান থেকে নেমে আসা পানিতে যে কোনো সময় এলাকা বিলীন হয়ে যেতে পারে।
কিশোরপুর এলাকার বাবু প্রভাত কুমার সরকার বলেন, এমপি, মন্ত্রী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ সংস্কারের কথা বললেও তা আজও কার্যকর হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য এটা আমাদের কাজ না, এটা পানি উন্নয়ন বোডের্র দায়িত্ব। উপজেলা প্রকৌশলী অফিস জানায়, আমরা বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি। ঈদের দুদিন পর গত রোববার রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহরিয়ার আলম পদ্মার ভাঙন পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে
0 comments:
Post a Comment